anindya
অনিন্দ্য ভারতি

অনিন্দ্য ভারতি: ভারতবর্ষ ঐতিহাসিক প্রবাহের বার্তাবহ এক দেশ। ইতিহাস প্রমাণ রাখে এই দেশের উত্থান এবং পতনের সাক্ষী। ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ঘটনা যেমন প্রাকৃতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অবস্থা আমরা লক্ষ্য করেছি। অঙ্গরাজ্য সহ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে কেন্দ্রের সম্পর্কে চলছে এই দেশ। প্রধানমন্ত্রী সহ অন্যান্য ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা দেশ চালাচ্ছে। দেশ গণতান্ত্রিক হওয়ায় আমরা সাধারণ মানুষেরাও পরোক্ষভাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর শাসনে চলছি।

যাই হোক এখন মূল আলোচনায় আসা যাক। জ্যোতিষের আলোকে ভারত মকর রাশির দেশ, অধিপতি শনি। রাশিচক্রে মকর কালপুরুষের অঙ্গ বিভাগ অনুসারে দশম রাশি। শনি নিজেই ভৃত্য শ্রেণী এবং নানা ধর্ম, জাতি ভাষা নির্বিশেষের একক। শনি আবার মকরের দ্বিতীয় ঘর কুম্ভের অধিপতি যার অধিপতি শনি। এই ঘর ধন স্থান। আবার মকরের দ্বাদশ ঘর ধনু, যার অধিপতি বৃহস্পতি এবং এটি ব্যয় স্থান। মকরের চতুর্থ এবং একাদশ ঘর মঙ্গলের। মঙ্গল যোদ্ধা এবং ক্রুর গ্রহ। একইসঙ্গে ভাগ্য ও ধর্মের ঘর বুধ। বুধ বিদ্যা, বুদ্ধি, ব্যবসা ও বুদ্ধিজীবী কারক। সুতরাং এই সকল গ্রহ ভারতের ভবিষ্যতের কারক।

দেশের আর্থসামাজিক অপর শনি ২০১৭-এর প্রারম্ভে সক্রিয় অবস্থান নিয়েছে। একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষণীয় অর্থনৈতিক পরিকাঠামো দ্রুত পরিবর্তিত হতে চলেছে। শনির সাড়ে সাতি এলে যেমন মানুষকে কষ্ট দিয়ে তাঁর ভুল ভ্রান্তি পাপকে নিসরে তাঁকে শুদ্ধ ভাবে সৃষ্টি করে। সেই অনুসারে মকর রাশির সাড়ে সাতি শুরুর প্রারম্ভ থেকেই এর ঢেউ উঠেছে। এতে দেশের ও দশের পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। শনি ব্যতীত অন্যান্য গ্রহদের ভূমিকাও কম যাবে না। দেশের গরীব মানুষের চিন্তাধারা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি অনেকটাই বাস্তব সম্মত ও স্বচ্ছ হবে। প্রতিবাদের ভাষা বদলে যাবে। এর ফল শাসন ব্যবস্থার উপর পড়বে। ইতিহাস সাক্ষী আছে, এছাড়াও বিজ্ঞানের আবিষ্কার, খেলাধুলার নামযশ, অন্তর্দেশীয় ব্যবসা চুক্তি ও টাকার দাম বৃদ্ধি পাবে। আগামী আড়াই বছরে দেশের গতিপ্রকৃতি এবং শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন দেখা যাবে। বিচ্ছিন্নতাবাদী ও উগ্রবাদীদের সঙ্গে ছায়া যুদ্ধের ঘন ঘন ডঙ্কা বাজবে। এই বোধহয় যুদ্ধ লেগে গেল এমন। দুর্নীতিপরায়ণ উচ্চপদস্থদের মুখোশ খুলে যাবে। বিশিষ্ট রাজনৈতিক পদস্থ আমলা, ক্রীড়া ও অভিনয় জগতের ব্যক্তিত্বের অপমৃত্যু বা জনগণের নেতা-নেত্রীর প্রয়াণ অসম্ভব নয়। রেল বা বিমান দুর্ঘটনার মতো মহা প্রাকৃতিক বিপর্যয় লক্ষণীয়। বিচার ব্যবস্থার শক্তি বৃদ্ধি হবে। খেটে খাওয়া মানুষগুলো পেটের দায়ে নিজেকে পালটে নীচ কর্মে লিপ্ত হতে পারে। আবার পরে ভুল বুঝে নিজেকে স্বচ্ছ করে ভালো কাজে নিযুক্ত হবে। মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ বাড়বে। তবে প্রশ্ন হল, দেড়শো কোটির উপরে লোকের পরিবর্তন কী আগামী বছর থেকেই শুরু হবে? আগে দেশের জনসাধারণের স্বচ্ছ হওয়া দরকার। তাহলেই দেশ স্বচ্ছ হতে পারে। জোর করে অভিযান করে কিছু হয় না। সার্বিক শিক্ষায় উন্নতি ও ন্যায় বোধ এবং প্রত্যেকের জীবনে সুস্থ থাকুক এই কামনায় করি। মনের উপর জোর রাখুন এবং ধৈর্য্য ধরুন।