নয়াদিল্লি: চলতি বছরে বেশ কয়েকবার পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এসেছে উল্কাপিণ্ড। তবে এবার যে উল্কাপিণ্ড ধেয়ে আসছে তার বিশেষত্ব একেবারেই আলাদা। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এবছর তো বটেই এমনকি গত কয়েক বছরে এই প্রথম এমন ঘটল যেখানে কোনও উল্কাপিণ্ড পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি কাছাকাছি আসছে।

বিজ্ঞানীদের বক্তব্য অনুসারে ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতেই এই উল্কাপিণ্ড পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি আসবে। এই গ্রহাণুর নাম 2020 SW। বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, এটি চাঁদের থেকেও পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসবে।

পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব প্রায় ৩.৮৪ লক্ষ কিলোমিটার। অন্যদিকে এই গ্রহাণুটি ও পৃথিবীর মধ্যেকার দূরত্ব থাকবে মাত্র ২৮ হাজার ২৫৪ কিলোমিটার। অর্থাৎ পৃথিবী থেকে পাঠানো স্যাটেলাইটগুলি যে কক্ষপথে থাকে, এই উল্কাপিণ্ড তার চেয়েও অনেক কাছ থেকে যাবে।

বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, এই উল্কাপিণ্ডর আয়তন হতে পারে ১৪ থেকে ৩২ ফুট। পৃথিবীর পাশ থেকে যখন এটি যাবে, তখন এর গতিবেগ থাকবে ঘন্টা প্রতি ২৭ হাজার ৯০০ কিমি।

এই গ্রহাণু যার নাম 2020 SW, এটিও সূর্যের চারিদিকে ঘোরে। পৃথিবীর যেখানে সূর্যকে অতিক্রম করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন। সেখানে এই গ্রহাণুর সময় লাগে ৩৭২ ঘন্টা। যে মুহূর্তে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি থাকবে তখন ওই গ্রহাণুর নীচে থাকবে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড।

বিজ্ঞানীরা বলছেন এটি পৃথিবীর কানঘেঁষে বেরিয়ে যাবে। তবে যদি কোনও কারণে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ দ্বারা এটিতে টানের সৃষ্টি হয় এবং পৃথিবীতে আঘাত করে তবে বিশাল ক্ষতি হতে পারে। যদি এটি সমুদ্রে পড়ে সেক্ষেত্রেও সুনামি হতে পারে। এছাড়া মাটির ওপর পড়লে বিশাল বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হবে এবং আশেপাশে এলাকায় আগুন জ্বলে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

এই গ্রহাণু খালি চোখে দেখা পৃথিবী থেকে সম্ভব নয়। ৬-৮ ইঞ্চি ব্যাসের একটি টেলিস্কোপের মাধ্যমে এটি দেখা যেতে পারে। চাঁদের চেয়েও পৃথিবীর অনেক কাছ ঘেঁষে যাবে বলে এই গ্রহাণু নিয়ে কিছুটা আশঙ্কিত বিজ্ঞানীরাও।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।