নিউ ইয়র্ক: লক্ষ লক্ষ বছর আগে এক বিশাল বড় গ্রহাণুর ধাক্কায় ধ্বংসলীলা হয়েছিল পৃথিবীতে। বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল বিশ্বের একাধিক প্রজাতি। অবলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল ডায়নোসর। এবার নাসার বিজ্ঞানীরা খবর দিচ্ছেন, তেমন বড় একটা গ্রহাণু ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে। বর্তমানে সূর্যের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে সেটাই। কয়েক বছরের মধ্যে এসে যাবে পৃথিবীর একেবারে কাছে।

২০২৭–এর মধ্যেই একেবারে কাছে এসে যাবে সেটি। এমনটাই আশঙ্কার খবর দিয়েছে নাসা। কারণ এভারেস্ট পর্বতের চেয়েও বিশাল একটি গ্রহাণু ঘণ্টায় ৫২০০০ কিলোমিটার গতিতে মহাকাশ পেরিয়ে ক্রমশ আসছে পৃথিবীর কাছে। নাসার গ্রহাণু সংক্রান্ত গবেষকরা এই বিধ্বংসী গ্রহাণুর নাম দিয়েছে ৪৯৫৩(‌১৯৯০ এমইউ)‌। গ্রহাণুটির ব্যাসের আয়তন ছ’মাইল। এখনও পর্যন্ত হওয়া পরীক্ষানিরীক্ষা বলছে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বেশ কয়েকবার পৃথিবীর উপর দিয়ে উড়ে যাবে ৪৯৫৩(‌১৯৯০ এমইউ)‌।

তবে, ২০২৭–এর ৬ জুন পৃথিবীর সব থেকে কাছে আসতে পারে গ্রহাণুটি‌। ওই দিন পৃথিবী থেকে ৪৯৫৩(‌১৯৯০ এমইউ)‌–এর দূরত্ব হবে মাত্র ৪.৬১ মিলিয়ন কিলোমিটার, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে খুবই কম। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওই গ্রহাণুর সঙ্গে পৃথিবীর ধাক্কা লাগার মধ্যে যে ব্যাপারগুলি কাজ করবে তার মধ্যে অন্যতম মাধ্যাকর্ষণ গহ্বর। মহাশূন্যে মাধ্যাকর্ষণ গহ্বর বলা হয় যেই জায়গাকে যেখানে কোনও মহাজাগতিক বস্তু তার লাগোয়া গ্রহের মাধ্যাকর্ষণের টানে প্রভাবিত হয়। তাই ৪৯৫৩(‌১৯৯০ এমইউ)‌ যদি এই মাধ্যাকর্ষণ গহ্বরের উপর দিয়ে উড়ে যায় তাহলে পৃথিবীর সঙ্গে ধাক্কা লাগার সমূহ সম্ভাবনা।

মাস কয়েক আগেই কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আয়ান ম্যাকডোনাল্ড সতর্ক করেছিলেন পৃথিবীর সঙ্গে গ্রহাণুর সংঘর্ষের ফলে ভয়ানক বিপর্যয় হতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিরক্ষা যন্ত্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে নাসা। এজন্য বিশাল একটি মহাকাশযান তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গিয়েছে। যা পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা কোনও গ্রহাণুকে ধাক্কা মেরে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে।