স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেছিলেন ২০১৯ বিজেপি ফিনিশ৷ আর বিজেপি বলেছিল ২০২১ তৃণমূল ফিনিশ৷ সপ্তদশ লোকসভার পরই ২০২১ এ রাজ্যে রয়েছে বিধানসভার ভোট৷ তার আগে লোকসভার ভোট ঘোষনার পরই দেখা গেল বিজেপি ১৮ টি আসন দখল করেছে৷ এবং বিধানসভার নিরিখে রাজ্যে ১২৯ আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি৷ সেটাই এখন তৃণমূলের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে৷

নির্বাচন দফতরের ঘোষনা অনুযায়ী বাংলায় ৪২ টি আসনের মধ্যে ১৮টি লোকসভা আসন দখল করেছে বিজেপি৷ ভোটের আগে বাংলার মানুষের মনে যে গেরুয়া ঝড় বইছিল তার বহিরপ্রকাশ ঘটেছে ফল ঘোষনায়৷ বিজেপি একধাক্কায় ভোট প্রাপ্তির হারও বাড়িয়ে নিয়ে গেল ৪০ শতাংশে৷ এবং রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১২৯টি বিধানসভা কেন্দ্রে এগিয়ে গেল গেরুয়া শিবির। বাকি ১৬৫টি বিধানসভার ১৫৮টি কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল৷

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার ছুটে গিয়েছিলেন উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে৷ সেখানকার মানুষের মুখে হাসি ফুঁটিয়েছেন বলে তিঁনি দাবি করেছেন৷ আর সেই দু’টি জায়গায়ই সপ্তদশ লোকসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে৷ ফল ঘোষনার পর দেখা যায় উত্তরবঙ্গে একটিও আসন পায়নি তৃণমূল। শুধু তাই নয় সেখানকার ৪৩টি বিধানসভা আসনে এগিয়ে গিয়েছে বিজেপি। উত্তরবঙ্গের মত একই প্রবণতা দেখা গেল জঙ্গলমহলেও। যেখানে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা বিশেষ করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রামে একচেটিয়া ফল করেছে বিজেপি।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপি এই ফলের নিরিখে এবার তৃণমূলস্তরে তাদের সংগঠন আরও মজবুত করতে উদ্যোত হবে৷ ভোটের আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে যে ছবি উঠে এসেছিল তা হল বুথস্তরে বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা৷ এবং প্রকাশ্যে আসে নেতা এবং কর্মী-সমর্থকের মধ্যে সমন্নয়ের অভাব৷ এবার সেইসব কর্মী সমর্থক প্রকাশ্যে গেরুয়া ঝান্ডা হাতে রাস্তায় নামবে, এমনটাই অনেকের মত৷