দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাটি ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ কারণ এই জেলার পূর্ব দিকে রয়েছে বাংলাদেশ৷ জেলার পশ্চিম দিকে হুগলি নদী ও দক্ষিণ দিকে বঙ্গোপসাগর রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাংশ জুড়ে রয়েছে সুন্দরবন৷ এখানেই দেখা মেলে রয়াল বেঙ্গল টাইগারের৷ এই জেলাটি আয়তনের দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম ও জনসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা। জনসংখ্যার নিরিখে ভারতের ৬৪০টি জেলার মধ্যে এই জেলার স্থান ষষ্ঠ। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গা ঘেঁষেই রয়েছে তিলোত্তমা কলকাতা মহানগরী৷

১. গোসাবা

সুন্দরবনের এই বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন৷ এলাকার বেশ কিছু মানুষজন চাষবাসের কাজের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন৷ ২০১৬ সালে গোসাবা বিধানসবা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন জয়ন্ত নষ্কর৷ আরএসপি-র উত্তম কুমার সাহাকে প্রায় ২০ হাজার ভোটে হারিয়ে জয়ী হন তিনি৷ তবে এবার এই এলাকায় বিজপির সংগঠন তৈরি হয়েছে৷ অন্যদিকে, বাম-কংগ্রেস জোটও লড়াইয়ের ময়দানে৷ সব মিলিয়ে গোসাবায় লড়াই এবার সেয়ানে-সেয়ানে এমনই বলছেন স্থানীয় মানুষজন৷

২. বাসন্তী

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার এই বিধানসভা কেন্দ্রটিও সুন্দরবন লাগোয়া৷ এই বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তেজনা বছরভরই লেগে থাকে৷ আরএসপি-র নিজস্ব একটি ভোট ব্যাঙ্ক রয়েছে বাসন্তীতে৷ তবে এবার দলের নীচুস্তরের বহু নেতা-কর্মী বিজেপিতে যুক্ত হয়েছেন বলে শোনা গিয়েছে৷ ২০১৬ সালে বাসন্তীতে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরএসপি-র সুভাষ নষ্করকে হারিয়ে দেন তৃণমূলের গোবিন্দ নষ্কর৷ সাড়ে ১৬ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছিলেন গোবিন্দ নষ্কর৷ তবে এবার শাসক তৃণমূল ও বাম-কং জোটকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ফেলতে পারে গেরুয়া শিবির৷

৩.কুলতলি

বরাবরই এই বিধানসভা কেন্দ্রে দাপট এসইউসিআই-এর৷ এই দলটির কুলতি এলাকায় নিজস্ব সংগঠন শক্তিশালী৷ তবে আগের চেয়ে তার শক্তি কমেছে৷ তবে কুলতলি বিধানসভা কেন্দ্রটিতে এসইউসিআই-এর নিজস্ব একটি ভোটব্যাঙ্ক এখনও রয়ে গিয়েছে৷ ২০১১ সালের পর থেকে এলাকায় তৃণমূলেরও প্রভাব বেড়েছে৷ তবে গতবার সিপিএম প্রার্থী রামশংকর হালদারের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তৃণমূলের গোপাল মাঝি৷ ২০১৬ সালের নির্বাচনে ১১ হাজার ৭২০ ভোটে জিতেছিলেন সিপিএম প্রার্থী৷ অন্যদিকে গত বিধানসভা ভোটে ৪৮ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিলেন এসইউসিআই প্রার্থী৷

৪. পাথরপ্রতিমা

পাথরপ্রতিমা বিধানসভা কেন্দ্রটি মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত৷ ২০১১ সালের পর থেকে এই কেন্দ্রে ভালোই প্রভাব তৈরি হয় তৃণমূলের৷ গত কয়েক বছরে সেই প্রভাব বেড়েছে৷ তবে সম্প্রতি এলাকায় বিজেপির সংগঠন তৈরি হয়েছে৷ শাসকদলেরই অনেকে নাম লিখিয়েছেন বিজেপিতে৷ ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পাথরপ্রতিমা কেন্দ্রে ১ লক্ষেরও বেশি ভোট পেয়েছিলেন তৃণমূলের সমীর কুমার জানা৷ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের ফণীভূষণ গিরিকে ১৩ হাজার ৭৯৩ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন তিনি৷ গত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃতীয় স্থানে ছিল বিজেপি৷

৫. কাকদ্বীপ

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কাকদ্বীপ বিধানসভা কেন্দ্রটিও মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। ২০১৬ সালে এই বিধানসভা কেন্দ্রে ৯০ শতাংশ ভোট পড়েছে৷ ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে কাকদ্বীপ থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন মন্টুরাম পাখিরা৷ বর্তমানে সুন্দরবন উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী তিনি৷ গতবার মন্টুরাম পাখিরা প্রায় ২৫ হাজার ভোটে হারিয়েছিলেন কংগ্রেসের রফিকউদ্দিন মোল্লাকে৷ গতবার এই কেন্দ্রে তৃতীয় স্থানে ছিল বিজেপি৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।