বিশেষ প্রতিবেদন: অল ফিনিশ- সেদিন সব কিছু শেষ করে এরকমই বলেছিল ঘাতকদের দলবল। ঢাকার ৩২ নম্বর ধানমণ্ডির বাড়ি ততক্ষণে মৃতদেহ আর রক্তে ভেসে গিয়েছে। খুন করা হয়েছে বাংলাদেশের স্থপতি তথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আত্মীয় পরিজন সব মিলে ২৬ জনকে ব্রাশ ফায়ারে খতম করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের দিন উপমহাদেশ তথা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অন্যতম কালো দিন হিসেবে কুখ্যাত।

১৫ অগস্ট, ভারতের স্বাধীনতার দিন। ক্ষমতায় তখন কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যে একটি রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি ক্রমে শক্তিশালী হয়ে উঠছে সেটা গুপ্তচর সংস্থা ‘র’ মারফত জানতে পেরেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। র-এর তৎকালীন প্রধান রামেশ্বর নাথ কাও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যে ষড়যন্ত্র চলছিল তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীকে। ফলে চিন্তিত হয় ভারত সরকার। কারণ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গ ছেড়ে নব রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

আর সেই মুক্তিযুদ্ধে ভারতের কাছে অস্ত্র নামিয়ে আত্মসমর্পণ করে ৯০ হাজারের বেশি পাক সেনা। তারপরই শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করে। কিন্তু, সেনা বাহিনির একাংশ অফিসার শেখ পরিবারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন। তারাই নেতৃত্ব দেন মুজিব হত্যার নীল নকশা তৈরিতে। এই ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পের র প্রধান রামেশ্বর নাথ কাও সরাসরি ভারত সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক মুজিবুর রহমানকে জানিয়েছিলেন। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সেই সতর্কতা উড়িয়ে দেন মুজিবুর। তাঁর যুক্তি ছিল বাঙালিরা তাঁকে মারতে পারে না। বারবার সতর্ক করা হলেও কর্ণপাত করেননি শেখ মুজিবুর রহমান।

এদিকে বাংলাদেশ সেনা বাহিনির অভ্যন্তরে ক্রমে দানা বাধতে থাকে ষড়যন্ত্রের ঘুঁটি। অবশেষে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট দিন ঠিক হয়। তাৎপর্যপূর্ণ দিন। কারণ ভারত স্বাধীনতা পান করবে এই দিনে। আর ভারতের সাহায্যেই বাংলাদেশ তার মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হয়ে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ভয়ঙ্কর সেই ছক থেকে ধারণা করা যায়, পাকিস্তানের সামরিক কর্তারা কতটা জড়িত ছিল এতে। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট নিরাপত্তা রক্ষী থাকলেও বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ৩২ নম্বর ধানমণ্ডি ঘিরে নেয় সেনা বাহিনি। শুরু হয় ব্রাশ ফায়ার।

একে একে খুন করা হয় বঙ্গবন্ধু সহ তাঁর পরিবারের ২৬ জনকে। সেই খবর পরে বিশ্ব জুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। আর যখন সব জানতে পেরেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী ততক্ষণে তাঁর প্রিয় শেখ সাহাব আর নেই। তবে কোনও রকমে সেদিন বেঁচে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা। কারণ তাঁরা সেদিন ছিলেন জার্মানিতে। মারাত্মক এই হত্যাকাণ্ডের খবরে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন ইন্দিরা। হতবাক হয়েছিল বিশ্ব। তারপরের পরিস্থিতি আরও মারাত্মক। বাংলাদেশ সেনা বাহিনিতে মুজিবুর অনুগামী ও বিরোধীদের পারস্পরিক ক্ষমতা দখলের লড়াই শুরু হয়। টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তারপর ক্ষমতায় আসেন সেনা কর্তা জিয়াউর রহমান।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ