গুয়াহাটি: স্বাধীনতার পরে পেরিয়ে গিয়েছে সাত দশক। মাঝে বিকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নরেন্দ্র মোদীর শাসনকালের পাঁচ বছরও শেষ হয়েছে। তবুও উন্নয়ন বা বিকাশ কিছুই পৌঁছায়নি অসমের হাপজান পর্বত চা বাগান সংলগ্ন গ্রামে।

আরও পড়ুন- নোংরা পুকুরের জলেই রান্না থেকে শৌচকর্ম, ‘বিকাশে’র নজির NDA রাজ্যে

উল্লেখিত গ্রামের মানুষদের ব্যবহারের জন্য নেই কোনও পরিষ্কার জলের ব্যবস্থা। নোংরা নদীর জল দিয়েই চলে জলের সাহায্যে ব্যবহৃত সকল কাজ। যার কারণে জলবাহিত সকল প্রকারের রোগ। একই সঙ্গে সকল ধরনের প্রশাসনিক কর্তাদের এই বিষয়ে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

আরও পড়ুন- মিড ডে মিলের বর্জ্য বাঁচিয়ে চলছে চাষ, নজির খুদে পড়ুয়াদের

ওই নদীর জল দিয়েই হয় রান্না। পানীয় জল হিসেবে ওই নদীর জলই ব্যবহার করা হয়। নদীর পারে বসেই সবাই কাপড় কাচেন। স্নান করতেও ভরসা সেই নদী। এছাড়াও শৌচকর্মের জন্যেও সেই নদীর জলই ভরসা। শৌচকর্মের জন্য অনেকে আবার নদীর থেকে বাড়িতে জল টেনে নিয়ে যেতে নারাজ। সমগ্র কাজটিই হয় নদীতে। সেই নদী থেকেই সংগ্রহ করা হয় পানীয় জল।

ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মতো অসমের হাপজান পর্বত চা বাগান সংলগ্ন গ্রামেও গবাদি পশু পালনের রেওয়াজ রয়েছে। পশুর খাওয়ার জন্যেও এই নদীর জল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন যে এই গ্রামে মানুষ এবং পশু সবাই একই জল পান করে থাকে। এতেই সবাই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই এই কারণে জলবাহিত রোগের প্রকোপ মারাত্মকভাবে দেখা যায় এই গ্রামে।

আরও পড়ুন- নোংরা পুকুরের জলেই রান্না থেকে শৌচকর্ম, ‘বিকাশে’র নজির NDA রাজ্যে

প্রতি ভোটের আগে অবশ্য এই সমস্যা দূর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সকল রাজনৈতিক দলের নেতাদের মুখ থেকেই এই একই প্রতিশ্রুতি শোনা যায় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘ দিন পার হয়ে গেলেও কোনও সুরাহা হয়নি এই সমস্যার।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, অসমে এই মুহূর্তে শাসন করছে বিজেপি। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের বছর দুই পরে ওই রাজ্যের শাসন ক্ষমতা দখল করে পদ্ম শিবির। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের আগে ওই রাজ্যের প্রধান ইস্যু হয়েছে নাগরিক পঞ্জী। যা নিয়ে সমগ্র দেশে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই বিতর্কের মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে হাপজান পর্বত লাগোয়া এই গ্রামের প্রধান সমস্যা।

আরও পড়ুন- নোংরা পুকুরের জলেই রান্না থেকে শৌচকর্ম, ‘বিকাশে’র নজির NDA রাজ্যে