দিসপুর: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে কেন্দ্র-বিরোধী প্রবল বিক্ষোভের জেরে অসমের পর্যটন শিল্পে এবার বিপুল ক্ষতি হয়েছে। উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে পর্যটন শিল্পে এবার ১০০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পর্যটন শিল্পে এই বিপুল ক্ষতি অসমের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। অসম পর্যটন দফতরের তরফে এমনই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লোকসভায় এবং তারপর রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার পর থেকেই বিক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে অসম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে। কেন্দ্র-বিরোধিতায় পথে নেমে আন্দোলনে সামিল হন সাধারণ মানুষ। তারপর বিলে রাষ্ট্রপতি সিলমহোর দিতেই তা আইনে পরিণত হয়। বিক্ষোভ চরম আকার নেয় অসমজুড়ে। পথে নেমে হাজার-হাজার মানুষ বিক্ষোভ শুরু করেন। বিজেপি বিরোধী একাধিক রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে একাধিক গণ সংগঠন সোচ্চার হতে থাকে। রাস্তা, রেল অবরোধ করে দফায় দফায় চলে বিক্ষোভ। বহু জায়গায় রাস্তা ও রেললাইনে আগুন জ্বেলে চলে বিক্ষোভ। আন্দোলনের নামে তাণ্ডবও চলে অসমের বিভিন্ন শহরে। বাস, গাড়ি জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন মানুষজন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম দশা হয় পুলিশ প্রশাসনের। লাঠিচার্জ করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনার চেষ্টা হয়। বিক্ষোভকারীদের ঠএকাতে একাধিক এলাকায় ব্যবহার করা হয় জলকামান। কেন্দ্র-বিরোধী আন্দোলনে সামিল হয়ে অসমে ৬ জনের মৃত্যুও হয়।
পরিস্থিতি সামলাতে অসমে সেনা নামানো হয়।

এদিকে, অসমে অশান্তির আগুন জ্বলে ওঠায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। ফ্রান্স, ব্রিটেন, আমেরিকা-সহ একাধিক দেশ পর্যটকদের অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতে যাওয়ার ক্ষেত্রে অ্যাডভাইজরি জারি করে। তারই জেরে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে পর্যটন শিল্পে এবার রেকর্ড অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে।প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তো বটেই এমনকী ভিনদেশ থেকেও বহু পর্যটক বেড়াতে যান অসমে। কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান, কামাখ্যা মন্দির, মাজুলি দ্বীপ, তেজপুর, হাজো, ডিব্রুগড়, শিবসাগরের মতো জায়গায় বিশেষত পর্যটনের এই ভরা মরশুমে ভিড় উপচে পড়ে পর্যটকদের। অসমের বহু মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পর্যটন শিল্পের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এবার নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি নিয়ে প্রবল বিক্ষোভের জেরে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যের পর্যটন শিল্প শিকেয় ওঠে।

নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদের জেরে বিপুল লোকসানে মাথায় হাত অসমের পর্যটন ব্যবসায়ীদের। নতুন বছরের শুরুতেও হোটেলে-হোটেলে বুকিং নেই বললেই চলে। পর্যটকদের দেখা নেই অসমে।