শিলচর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে সোশাল মিডিয়ায় আপত্তিকর পোস্ট করে গ্রেফতার হলেন অসমের শিলচরের অধ্যাপক সৌরদীপ সেনগুপ্ত। এমনকী ওই অধ্যাপককে কলেজ থেকে বরখাস্ত করার দাবিতেও সরব হয়েছেন পড়ুয়াদের একাংশ। সোশাল মিডিয়ায় ওই পোস্টের পর বিতর্ক ছাড়াতে দেখে ওই পোস্টটি বাতিল করে ক্ষমা চাইলেও মেলেনি রেহাই।

দিল্লির ঘটনা নিয়ে এবার মোদীর বিরুদ্ধে সোশাল মিডিয়ায় সরব হওয়ায় শাসকের রোষে অধ্যাপক। শিলচরের গুরুচরণ কলেজের পদার্থ বিদ্যার অধ্যাপক সৌরদীপ সেনগগুপ্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে গত ২৫ ফেবরুয়ারি সোশাল মিডিয়ায় মোদীর বিরুদ্ধে সরব হন তিনি।

ফেসবুকে ‘সনাতন ধর্ম মাই ফুট’,‘আরএসএস-বিজেপি দিল্লিতে গোধরা কান্ডের পুনরাবৃত্তি করছে’,‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গণহত্যাকারী’, বলে লিখেছিলেন অধ্যাপক। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসতে থাকেন কলেজের পড়ুয়াদেরই একাংশ। শুক্রবার শিলচর সদর থানায় ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। ওই দিন সন্ধেয় তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এদিকে, শিলচরের গুরুচরণ কলেজের পড়ুয়াদের একাংশও ধৃত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁদের মতে, ধর্মের বিরুদ্ধে সোশাল সাইটে লিখে ‘অন্যায়’ করেছেন অধ্যাপক সৌরদীপ সেনগুপ্ত। দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওই অধ্যাপক অশালীন মন্তব্য করেছেন বলেও অভিযোগ পড়ুয়াদের একাংশের।

এদিকে, ধৃত অধ্যাপক সৌরদীপ সেনগুপ্তর পরিবারের দাবি, গুরুচরণ কলেজের তরফে তাঁদের ফোনে ভয় দেখানো হয়েছে। পরে কলেজের প্রায় ৪০-৫০ জন ছাত্র বাড়িতে এসেও চড়াও হয়। সৌরদীপকে ফেসবুক লাইভে গিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেছিল। ফেসবুক থেকে মূল পোস্টটি ডিলিট করে সৌরদীপ আগেই ফেসবুকে ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছেন।

সিএএ সমর্থনকারী ও বিরোধীদের সংঘর্ষে একটানা ৩ দিন ধরে উত্তপ্ত ছিল দিল্লি। উত্তর-পূর্ব দিল্লির জাফরাবাদ, মৌজপুর, চাঁদবাগ, সিলমপুর-সহ একাধিক এলাকায় হিংসার আগুন জ্বলে ওঠে। একের অপরের উপর লাঠি, রড নিয়ে চড়াও হয় দু’পক্ষ। একাধিক এলাকায় ওঠে গুলি চালানোর অভিযোগ।

দিল্লির সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তিনশোর কাছাকাছি মানুষ আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভরতি রয়েছেন। প্রায় ৭০ জনেরও বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।