গুয়াহাটি: এখনও নীরব পৃথক বোড়োল্যান্ড সশস্ত্র আন্দোলনের অন্যতম জঙ্গি নেতা আই কে সংবিজিৎ৷ তার নীরবতা নিয়েই প্রশ্ন প্রশাসনিক মহলে৷ কারণ, বৃহস্পতিবারই অসমে সর্বাধিক দেড় হাজার বোড়ো সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করবে৷ এতে অংশ নিয়েছে চারটি বোড়ো গোষ্ঠী৷ কিন্তু যে সংগঠন বারে বারে রক্তাক্ত করেছে অসমকে সেই এনডিএফবি(সংবিজিৎ) গোষ্ঠীর প্রধান কিছুই বার্তা দেয়নি৷

গুয়াহাটিতে পৃথক বোড়োল্যান্ড আন্দোলনের চারটি গোষ্ঠীকে অস্ত্র সমর্পণে রাজি করানোর প্রক্রিয়াকে সফলতা হিসেবেই দেখছে অসম ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকার৷ ২৭শে জানুয়ারি, নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার উপস্থিতিতে এনডিএফবি, নিখিল বোড়ো ছাত্র সংগঠন এক শান্তিচুক্তিতে অংশ নেয়৷ এতে ছিলেন বোড়োল্যান্ড আন্দোলনের অন্যতম নেতা রঞ্জন দৈমারি৷ তাঁকে জামিনে মুক্ত করে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়৷

আরও পড়ুন- বোড়ো না হয়েও বোড়োল্যান্ডের ‘রক্তচোষা বাদুড়’ সংবিজিৎ

তার আগে গুয়াহাটিতে আলফা(স্বাধীনতা) সহ বিভিন্ন সশস্ত্র উপজাতি সংগঠনের ৬৪৪ জন জঙ্গি তাদের অস্ত্রসমর্পণ করে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালের কাছে৷ তারপরেই বোড়োল্যান্ড আন্দোলনের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে অস্ত্র সমর্পণের জন্য চাপ দেয় সরকার৷ দিল্লিতে আলোচনায় বোড়ো সংগঠনগুলির বিভিন্ন দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্র ও অসম সরকার৷

অসমের অর্থমন্ত্রী তথা উত্তর পূর্ব ভারতের বিজেপির শীর্ষ নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, এনডিএফবি সংগঠনের ১৫০০ সশস্ত্র কর্মীকে ১হাজার ৫০০ ক্যাডার ৩০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র ত্যাগ করবে৷ এটিই হবে এখনও পর্যন্ত সর্ববৃহৎ জঙ্গি আত্মসমর্পণের দিন৷ অসম পুলিশের ডিজি ভাষ্করজ্যোতি মোহন্ত জানিয়েছেন, গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজে এই অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণের সময় প্রত্যেক বোড়ো জঙ্গি সদস্যরা প্রায় ১৫০টি অত্যাধুনিক অস্ত্র জমা দেবে৷ মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু দিনকেই আত্মসমর্পণের দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অসম সরকার৷

১৯৮৬ সালে জন্ম বোড়ো জঙ্গি সংগঠন এনডিএফবি৷ পৃথক বোড়োল্যান্ডের দাবিতে অসমের মাটিতেই তারা একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও নাশকতা চালিয়েছে৷ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা রঞ্জন দৈমারি৷ পরে তার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় অন্যান্যদের৷ তৈরি হয় এনডিএফবি(সংবিজিৎ)৷ এর প্রতিষ্ঠাতা আই কে সংবিজিৎ৷ বোড়ো না হয়েও সংবিজিতের নেতৃত্বে পরে বোড়ো আন্দোলন প্রবল রক্তাক্ত হয়৷ নাশকতার কারণে মোস্ট ওয়ান্টেড সংবিজিৎ৷ তারই মতো আলফা-স্বাধীনতা সংগঠনের প্রধান পরেশ বড়ুয়াও আত্মগোপনে৷

এখানেই প্রশ্ন উঠছে, আদতে সংবিজিতের মতো নেতা আত্মসমর্পণের বিষয়ে নীরব থাকায় পরবর্তীতে আরও হামলার আশঙ্কা থাকছে৷