গুয়াহাটি: প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি৷ তাই ভোটারদের কাছে ক্ষমা চাইলেন অসমের এক কংগ্রেস বিধায়ক৷ তাও আবার হাঁটু ভাজ করে মানে একেবারে নতজানু হয়ে৷ সে এক দেখার মতো দৃশ্য৷ রাজনীতিবিদরা প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হলে মুখে ক্ষমা চেয়ে নেন৷ কিন্তু এই কংগ্রেস বিধায়ক যা করে দেখালেন তা দৃষ্টান্ত হয়ে রইল বটে৷

অসমের এক উপজাতি সম্প্রদায়ের কংগ্রেস বিধায়ক রূপজ্যোতি কুর্মি এই কাণ্ডটি করেছেন৷ অসমের জোরহাট জেলায় নিজের বিধানসভা কেন্দ্র মারিয়ানিতে সরকার চালিত মহাত্মা গান্ধী মডেল হাসপাতালে যান তিনি৷ সেখানে রোগীদের সামনে নতজানু হয়ে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতে দেখা যায় রূপজ্যোতি কুর্মিকে৷

তিনি ক্ষমা চেয়েছেন কারণ প্রতিশ্রুতি মতো স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতি ঘটাতে পারেননি৷ তিনি আবার হাসপাতাল কমিটির সদস্য৷ তাঁর উপলব্ধি হয়েছে যারা প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসেন তারা এখানে ঠিক মতো স্বাস্থ্য পরিষেবা পান না৷

জানা গিয়েছে বিধায়ক হওয়ার পর তিনি এই হাসপাতালে আট জন ডাক্তার নিয়ে আসেন৷ কিন্তু ওই দিন হাসপাতালে গিয়ে দেখেন একজন ডাক্তারও আসেননি৷ ওই বিধায়ক জানান, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালের বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবার কারণে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে রোগীদের৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মাকে চিঠি দিয়ে হাসপাতালের অবস্থা সম্পর্কে জানিয়েছি৷ হাসপাতালে ডাক্তার অপ্রতুল সেটাও জানানো হয়৷ তখন বলা হয়েছিল ডাক্তাররা হাসপাতালে না আসলে তাদের বেতন থেকে টাকা কাটা যাবে৷ তারপরেও বদলায়নি পরিস্থিতি৷

রাজ্যের বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য অন্য বিরোধী দল অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট বিজেপিকেই দায়ী করেছে৷ তাদের অভিযোগ, প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার৷ দলের এক বিধায়ক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘‘আজ রূপজ্যোতি ক্ষমা চেয়েছে৷ কাল আমাকে ক্ষমা চাইতে হতে পারে৷ জনগণ ক্ষোভ আমাদের উপর এসে পড়ে৷’’

তবে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে বিরোধীদের সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি৷ দলীয় নেতা কিশোর নাথ জানান, অসমের স্বাস্থ্য পরিষেবার মেরুদণ্ড কংগ্রেস আমলেই ভেঙে গিয়েছিল৷ বিজেপি এসে তা মেরামত করছে৷ তিনি কংগ্রেস বিধায়কের নতজানু হওয়ার ঘটনাকে নাটক বলে অভিহিত করেছেন৷