গুয়াহাটি: অসমে চোলাই মদ খেয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে৷ মৃত্র সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩৩৷ ২০০ জনের বেশি অসুস্থ হয়ে ভরতি হাসপাতালে৷ তারা জোরহাট ও গোলাঘাটের হাসপাতালে চিকিৎসাধান৷ অসমের অতিরিক্ত ডিজি’র (আইন-শৃঙ্খলা) তরফে এই খবর জানানো হয়েছে৷

আরও পড়ুন: শহিদ শ্রদ্ধায় ন্যাশানাল ওয়ার মেমোরিয়াল, উদ্বোধন সোমবার

অসমে চোলাই মদকে বলা হয় ‘সুলাই’ মদ৷ বেআইনিভাবে সুলাই তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে ইতিমধ্যেই ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ উদ্ধার হওয়া বেআইনি দেশি মদ ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে ল্যাবে৷ জানিয়েছেন অসমের অতিরিক্ত ডিজি মুকেশ আগারওয়াল৷

আরও পড়ুন: ম্যারাথন দৌড় থেকে শহিদ পরিবারদের জন্য ১৫ লাখ সংগ্রহ সচিনের

আবাগারি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে শুক্রবারের এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯০টি মামলা রুজু করা হয়েছে৷ প্রত্যেকটি মামলাই আবাগারি আইন না মেনে চোলাই বিক্রির অভিযোগে৷ গত ২২ তারিখ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার লিটার বেআইনি মদ নষ্ট করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷

আরও পড়ুন: এক কোটি কৃষক পরিবারের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে দু’হাজার টাকা

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার রাতে অসমের গোলাঘাট জেলায়৷ এখানকার এক চা বাগানে চোলাই মদ খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন শতাধিক চা শ্রমিক৷ শুরু হয় বমি৷ প্রচন্ড পেটে ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে ভরতি করা হয় তাদের৷ এরপর শুরু হয় মৃত্যু মিছিল৷ শুক্রবার অবধি সংখ্যাটা দুই অংকে আটকে ছিল৷ কিন্তু শনিবার আরও বেশ কিছুজনের মৃত্যুর খবর মেলে৷ অসমর্থিত সূত্র অনুযায়ী চোলাই মদ খেয়ে ১১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ হাসপাতালে ভরতি আরও ৩৫০ জন৷

আরও পড়ুন: ৪০ জন জওয়ানের ওপর হামলা চালিয়ে মোদীর সঙ্গে হ্যাণ্ডশেক পাক সাংসদের

অসম সরকার পক্ষ থেকে মৃতের পরিবারদের দু’লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে৷ মর্মান্তিক ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ শনিবারই গোলাঘাটের হাসপাতালে অসুস্থদের দেখতে গিয়েছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল৷

আরও পড়ুন: কার্ফুর মধ্যেই অরুণাচলে পুড়ল উপ-মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি

তবে মৃত্যু মিছিল এখানেই থমকে থাকবে না৷ পুলিশ জানিয়েছে হাসপাতালে যারা ভরতি আছে তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক৷ ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে৷ এদিকে হাসপাতালগুলিতে ডাক্তারের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়ছে চিকিৎসায়৷ হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা৷ অবস্থা সামাল দিতে আসেপাশের জেলা থেকে ডাক্তারদের ওই হাসপাতালগুলিতে পাঠানো হয়েছে৷