গুয়াহাটি: বাল্যবিবাহ রোখার ক্ষেত্রে অভিনব পদক্ষেপ নিল অসম সরকার। সেখানকার সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে বিয়ে করলে নববধূ পাবে ১০ গ্রাম সোনা। তবে সেই সকল কনেদের অন্তত দশম শ্রেনী উত্তীর্ণ হতে হবে এবং সেই বিয়ে রেজিস্ট্রি করে হতে হবে।

জানা গিয়েছে, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে অরুন্ধতী স্বর্ণ প্রকল্প অনুসারে পাওয়া যাবে সোনা। এই নতুন পদক্ষেপের ফলে বাল্যবিবাহ রোধ করা যাবে বলে মনে করছেন অনেকে। অসমের অর্থমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছে এই নতুন প্রকল্পের ফলে অসম সরকারের খরচ হবে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার কাছাকাছি।

অসমে প্রতিবছরে ৩ লক্ষ বিয়ে হয় যার মধ্যে মাত্র ৫০-৬০ হাজার বিয়ে হয় রেজিস্ট্রি করে। আর এর ফলে বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত পরিষ্কার তথ্য সরকারের হাতে থাকে না। এই নতুন পদক্ষেপের ফলে যা অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন সচেতন মহল। অর্থমন্ত্রী বিশ্বশর্মা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তারা প্রত্যেক নববধূকে এক তোলা( ১০ গ্রাম ) সোনা দেবেন। তবে অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হবে। জানিয়েছেন এই প্রকল্প চালু হলে প্রায় ২ থেকে আড়াই লক্ষ বিয়ে রেজিস্ট্রি করে হবে বলে আশা করছেন অর্থমন্ত্রী। এরফলে সরকারের কাছেও পরিষ্কার তথ্য থাকবে।

আরও পড়ুন – মাত্র ৯ বছরেই ইউনিভার্সিটির ডিগ্রি, অবাক নেটিজেনরা

এই সুবিধা নিতে গেলে অন্য আর একটি শর্ত হল কনের পরিবারের আয় বছরে পাঁচ লক্ষের কম হতে হবে। তবে তিনি পরিষ্কার করেছেন এই সুবিধা পাওয়া যাবে কেবল প্রথম বিয়ের ক্ষেত্রেই পাওয়া যাবে এছাড়াও বিয়েটি হতে হবে ১৯৫৪ স্পেশাল ম্যারেজ আইন অনুসারে। এছাড়াও মেয়ের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ১৮ এবং ছেলের ২১।

নতুন বছরে এই প্রকল্প বাবদ অসম সরকারের তরফে ৩০০ কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছে। তবে চা বাগানের শ্রমিক এবং আদিবাসীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত নিয়ম না মানলেও চলবে জানানো হয়েছে। কারণ হিসেবে এই সব জায়গাতে শিক্ষার হার ততটা উন্নত নয় বলে তাঁদের ছাড় দেওয়া হয়েছে।

তবে অসমের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন এই সোনা নব বধূদের হাতে দেওয়া হবে না। রেজিস্ট্রি করার পরে তারা সোনার মূল্য বাবদ ৩০ হাজার টাকা কনের ব্যাঙ্কে পাঠিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন। তবে সেই টাকা অন্য কোন ভাবে ব্যবহার করা যাবে না বলেও পরিষ্কার ভাবে জানিয়েছেন তিনি। এই প্রকল্পের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে আগ্রহ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও বাল্যবিবাহ কমানো এবং সচেতনতা বাড়ানো এবং নারীদের অগ্রগতির ক্ষেত্রে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।