গুয়াহাটিঃ  প্রয়োজন সম্প্রীতির। আর সেই কারণে অসমে বাঙালি হিন্দু এবং অসম হিন্দুদের মধ্যে বিয়ে হলে মিলবে নগদ টাকা। এমনটাই চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব দিয়েছে ভাষিক সংখ্যালঘু উন্নয়ন বোর্ড। দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বোঝাপড়া আরও বাড়ানোর জন্যে এই সুপারিশ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী সরবানন্দ সোনোওয়ালের কাছে। প্রস্তাব গৃহীত হলে এই বছরের বাজেটে এর জন্য টাকা বরাদ্দ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যত অসমের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

ভাষিক সংখ্যালঘু উন্নয়ন বোর্ডের তরফে চেয়ারম্যান অলোক কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বোঝাপড়াটা খুব প্রয়োজন। বিশেষ করে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তো দুই সম্প্রদায়ের মানুষের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ, কথা বলাটা খুবই প্রয়োজন। ফলে নিজেদের জাতির বাইরে গিয়ে যারা বিয়ে করছেন, তাদের নগদ অর্থ দেওয়ার সুপারিশ বোর্ডের। তবে এই ক্ষেত্রে কিছু শর্তও রাখা রয়েছে। এই ক্ষেত্রে অহিন্দু বাঙালিরা এই প্রকল্পের সুযোগ পাবেন না বলে জানিয়েছেন বোর্ডের চেয়ারম্যান।

অলোক কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় পরিবারের অমত থাকে এই রকম বিয়ের ক্ষেত্রে। দুইক্ষেত্রেই সহজেই এই বিয়ে নেয় না। ফলে কেউ কাকে ভালোবাসালে তাঁর পরিণতি কি হবে তা নিয়ে প্রবল চিন্তার মধ্যে পড়তে হয়। তাই এই ক্ষেত্রে সরকারের উচিৎ তাঁদের পাশে থাকে। যাতে ভিনধর্মে বিয়ের পর সমস্যা না হয় সংসার চালাতে সেজন্যে এই নগদ দেওয়ার প্রস্তাব। অলোক কুমার ঘোষ মনে করেন, টাকা পেলে ভিন জাতিতে বিয়ে করা দম্পতিরা ছোটো ব্যবসা অন্তত শুরু করতে পারবে। সরকারের ছাড়পত্র পেলে কেবল আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারদেরই এই সুবিধা দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত বছর বাজেটে গরীব পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে দশ গ্রাম সোনা (৩০,০০০ টাকা) দেওয়ার জন্য টাকা বরাদ্দ করেছিল অসম সরকার। এবার সেরকমই বরাদ্দ চাইছে ভাষিক সংখ্যালঘু উন্নয়ন বোর্ড। ৪০ হাজার কিংবা ৩০ হাজার টাকা দিলেও সেই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব বলে মনে করেন অলোক কুমার ঘোষ। প্রসঙ্গত, ২০১১ সেনসাস অনুয়াযী, অসমে প্রায় ৯০ লক্ষ বাঙালি আছেন, তার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ হিন্দু। যদিও ইতিমধ্যে এহেন প্রস্তাবের তীব্র বিরোধীতা করা হয়েছে অন্য পক্ষের তরফে।