গুয়াহাটি: করোনা আবহেই অসমে ক্রমেই ভয়াল পরিস্থিতি নিচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি। ইতিমধ্যেই রাজ্যের ২ লক্ষের বেশি মানুষ বন্যায় ঘরছাড়া। অসমের ২ লক্ষ ৭২ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। দুর্গত। বন্যা মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে অসম সরকার। ত্রাণ শিবিরে সরানো হচ্ছে দুর্গতদের।

দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা শুকনো খাবার, জল, ত্রিপল পৌঁছে দিচ্ছেন দুর্গত এলাকায়। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির জেরে অসমে বন্যা পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। অসমের ধেমাজি, লক্ষ্মীপুর, নওগা, হাজই, দারং, বরপেটা, নলবাড়ি, গোয়ালপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায়।

ঘরছাড়া হাজার-হাজার পরিবার। বন্য়ার জলে প্লাবিত পশ্চিম করবি , ডিব্রুগড়, তিনসুকিয়া জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। শুধু গোয়ালপাড়াতেই ২ লক্ষের বেশি মানুষ গৃহহীন। বন্যার জলে তোড়ে বহু বাড়ি-ঘর নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বন্যার জল উঠেছে রেললাইনেও। রেললাইনে মাটি ধসে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বহু এলাকায় রেললাইনের নীচের মাটি সরে গিয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন চলাচল। বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল।

দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের সরকারি ত্রাণশিবিরে সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ত্রাণশিবির গুলিতেও যাতে করোনার সংক্রমণ রুখতে সবধরনের সুরক্ষাবিধি মেনে চলা হয় সেব্যাপারেও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকদের।

ফাইল ছবি

এই পরিস্থিতি অসমে করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কাও করছেন চিকিৎসকরা। ত্রাণশিবিরে স্যানিটাইজার ও মাস্ক রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এরই পাশাপাশি ত্রাণ শিবিরে যাতে সামাজিক দূরত্ব মেনে দুর্গতরা থাকেন সেদিকটিও নিশ্চিত করতে কর্তব্যরত প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।