মুম্বই: ইনফোসিসের হিসেবের গড়মিল প্রসঙ্গে সেবি চেয়ারম্যান অজয় ত্যাগীর কটাক্ষ ‘‘বিষয়টি নিয়ে নিলেকানি অথবা ভগবানকে প্রশ্ন করুন৷’’ সম্প্রতি ইনফোসিসের চেয়ারম্যান নন্দন নিলেকানির দাবি করেছেন, তাঁর সংস্থার হিসেবের খাতা এতটাই পোক্ত যে ‘স্বয়ং ভগবানও’ সেটার কোনও পরিবর্তন করতে পারবেন না। এদিকে শুক্রবার বণিকসভার এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে সেবি চেয়ারম্যানের কাছে সাংবাদিকেরা এই বিষয়টি উত্থাপন করেন৷ তখন ব্যঙ্গ করে তিনি একথা বলেন৷ পাশাপাশি তিনি জানিয়ে দেন, ইনফোসিসের বিরুদ্ধে যে তদন্ত শুরু হয়েছে তা চলছে ৷ তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ৷

ইতিমধ্যেই কর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনও প্রমাণ প্রাথমিক ভাবে পাওয়া যায়নি বলেই জানিয়েছিল ইনফোসিস৷ এই তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার দুই কর্তার বিরুদ্ধে অনৈতিক পদ্ধতিতে কাজের অভিযোগ উঠেছে৷ ইনফোসিসের কয়েক জন কর্মী সিইও সলিল পারেখ ও সিএফও নীলাঞ্জন রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনৈতিক পদ্ধতি অবলম্বনের অভিযোগ তোলেন।
তাদের সেই অভিযোগের মধ্যে ছিল – সংস্থার আয় ও মুনাফা বেশি দেখাতে অনেক ক্ষেত্রে এই দুই কর্তা অনৈতিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। তাঁদের ই-মেল এবং কথাবার্তার ভয়েস রেকর্ডিং থেকে যার প্রমাণ মেলে বলে দাবি করা হয়৷ তবে বোর্ড থেকে কোনও জবাব না আসায় তখন একজন হুইসলব্লোয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুইসলব্লোয়ার প্রোটেকশন প্রোগ্রামে চিঠি পাঠান।

যাতে অভিযোগ করা হয়- এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইচ্ছাকৃতভাবে হিসাবের ক্ষেত্রে বেনিয়ম দেখানো হয়েছে।
এদিকে,ইনফোসিস দুই কর্তা সিইও সলিল পারেখ ও সিএফও নীলাঞ্জন রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক পদ্ধতিতে কাজের অভিযোগের খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত করবে সংস্থার অডিট কমিটি বলে জানিয়েছিল। তাছাড়া ইনফোসিসের পক্ষ থেকে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে এই বিষয়ে একটি চিঠি পাঠান হয় ২নভেম্বর৷ সেই চিঠিতে সংস্থা জানায়, কোম্পানির কাছে যেসব অভিযোগ করা হয়েছিল সে বিষয়ে কোনও প্রমাণ মেলেনি৷

প্রসঙ্গত, তার আগে ইনফোসিস চেয়ারম্যান নন্দন নিলেকানি দেশের বিভিন্ন শেয়ারবাজারগুলিকে জানিয়েছিলেন, ২০ ও ৩০ সেপ্টেম্বর একজন বোর্ড সদস্য দুটি হুইসলব্লোয়ার অভিযোগ পেয়েছিলেন।এরপর দুটি অভিযোগই ১০ অক্টোবর অডিট কমিটির কাছে এবং পরের দিন বোর্ডের নন-এগজিকিউটিভ সদস্যদের কাছে পেশ করা হয়েছে।