সেদিনের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এবং শাসনের গন্ডি পেরিয়ে বহু নারীই পথ দেখিয়েছিলেন। আজকের দিনেও তাঁরাই অনুপ্রেরণা।

উনিশ শতকে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি ছিল পুরুষের একচ্ছত্র অধিকারে। ভারতের মত দেশে একটা মেয়ে বিজ্ঞান নিয়ে পড়বে এটা ভাবতে গেলেও স্পর্ধা লাগত। আর সেই বিজ্ঞানেই অসামান্য অবদান রেখেছিলেন ডঃ অসীমা চট্টোপাধ্যায়। গিয়েছেন। সফল জৈব রসায়নবিদ এই বাঙালিই ভারতের প্রথম মহিলা যিনি বিজ্ঞানে গবেষণা করেন ও ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। প্রথম মহিলা হিসেবে ডিএসসি পুরষ্কার পেয়েছিলেন তিনি। একটি ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে এই সাম্মানিক (ডক্টরেট অফ সায়েন্স) দেওয়া হয়েছিল।

১৯১৭ সালে কলকাতা শহরে জন্ম অসীমা চট্টোপাধ্যায়ের। এই শহরেই তাঁর বেড়ে ওঠা। বাবা ছিলেন নারায়ণ মুখোপাধ্যায় এবং মায়ের নাম কমলা দেবী। তাঁদের দুই সন্তানের মধ্যে অসীমা-ই ছিল বড়। বাবা নারায়ণ মুখোপাধ্যায় মেডিকেল কলেজের ডাক্তার হওয়ার সুবাদে পড়াশোনার প্রতি বাড়ির সকলেরই আলাদা একটা ঝোঁক ছিল। অসীমা চট্টোপাধ্যায় ছোটো বেলা থেকেই লেখাপড়ায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। রসায়ন বিদ্যার প্রতি আগ্রহী অসীমা কলকাতার তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে এই বিষয়ে অনার্স নিয়ে স্নাতক হন। এরপরে তিনি এম.এস.সি. (বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর) এবং ডিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

তাঁর ডক্টরেট ডিগ্রি চলাকালীন তিনি ভারতের অগ্রণী প্রাকৃতিক পণ্য রসায়নবিদ পি.কে বোসের নির্দেশনায় কাজ করেছিলেন। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন ভারতের রাসায়নিক বিজ্ঞানের জনক হিসেবে পরিচিত খ্যাতিমান বাঙালী রসায়নবিদ আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় এবং বিশ্বখ্যাত পদার্থবিদ অধ্যাপক সত্যেন্দ্র নাথ বোস। তাঁর গবেষণার বেশিরভাগ কাজকর্মই এই সমস্ত সেরা বিজ্ঞানীদের তত্ত্বাবধানেই গড়ে উঠেছিল।

এরপর ১৯৪০ সালে তিনি কলকাতার লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজে রসায়ন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান হিসাবে যোগদান করেন। পরে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নে অতিথি লেকচারার হিসেবে নিযুক্ত হন। সেই সময় তিনি আমেরিকা এবং ইউরোপে রসায়ন বিদ্যার অগ্রগতির ক্ষেত্রে বহু বিখ্যাত বিজ্ঞানীর সঙ্গে কাজে সহযোগিতা করেছিলেন।

১৯৫০ সালে বিদেশ থেকে ভারতে ফিরে আসার পর তিনি ভারতীয় ওষুধ নিয়ে রসায়ন ভিত্তিক গবেষণা শুরু করেছিলেন। তিনি সফলভাবে অ্যান্টি-মৃগী এবং ম্যানারি অ্যান্টি-ম্যালেরিয়ার ওষুধের আবিস্কার করেছেন। উভয় ওষুধ গুলি বেশ কয়েক বছর ধরে কয়েকটি সংস্থার দ্বারা বিপণন হয়েছিল। রসায়নের জগতে তাঁর আরও একটি অসামান্য অবদান হল ভিনকা অ্যালকালয়েডস সম্পর্কিত তাঁর কাজ। যা মাদাগাস্কার পেরিউইঙ্কল গাছগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত। এগুলি কেমোথেরাপিতে ক্যান্সার কোষকে বহুগুণ থেকে কমিয়ে আনতে সহায়তা করে।

১৯৭৫ সালে অসীমা চট্টোপাধ্যায় ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত প্রথম মহিলা বিজ্ঞানী হয়েছিলেন। একই বছর, তাঁকে বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স বিজ্ঞানের অবদানের জন্য বর্ষসেরা মহিলা হিসেবে সম্মানিত করা হয়। এর আগে, তিনি নয়াদিল্লির ভারতীয় জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমির (আইএনএসএ) ফেলো নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি দেশের বৈজ্ঞানিক কৃতিত্বের দুটি সর্বোচ্চ পদক সিভি রমন পুরষ্কার এবং শান্তি স্বরূপ ভাটনগর পুরষ্কার পেয়েছিলেন। তাঁকে ১৯৭৫ সালে পদ্মভূষণ সম্মাণে ভূষিত করা হয়েছিল। ভারতের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক রাজ্যসভার সদস্য হিসাবে মনোনীত হয়েছিলেন এবং ১৯৯০ সালের মে মাস পর্যন্ত এই পদের দায়িত্ব পালন করে ছিলেন তিনি।

এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে, অসীমা চট্টোপাধ্যায় রসায়ন বিদ্যার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রায় ৪০০ প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি সিএসআইআর দ্বারা প্রকাশিত ছয় খণ্ডের সিরিজের ‘ট্রিটিজ অফ ইন্ডিয়ান মেডিসিনাল প্ল্যান্টস’-এর চিফ-এডিটরও হয়েছিলেন। যেটি ছিল সেইসময়ের মহিলাদের দ্বারা অর্জন করা একটি অন্যতম কীর্তি।

তবে দুঃখের বিষয় হল, আমরা ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তকে তাঁর নাম খুব কমই পড়ি। তিনি কখনও তার পুরুষ সহযোগীদের মতো উদযাপিত হননি। তবে তিনি শিক্ষালাভে প্রচুর মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.