এশিয়ার সব থেকে বড় শিবলিঙ্গ দুটি রয়েছে এখানেই। মানে শহর কলকাতাতেই। কিন্তু কতজনই বা সেই খোঁজ রাখেন। আজকের কল্লোলিনীর মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল খিদিরপুরে অবস্থান দুই শিব লিঙ্গ। যা ‘ভূকৈলাস’ রাজবাড়ির।

প্রায় ২৫০ বছর আগে ফোর্ট উইলিয়াম থেকে খিদিরপুরে ঘোষাল রাজবাড়ি স্থানান্তরিত হয়। সেখানে মন্দির তৈরি হয়েছিল ১৭৮২ সালে। প্রতিষ্ঠাতা রাজা জয়নারায়ণ ঘোষাল। এখনও সেখানে বিশাল ধুমধাম করে পালিত হয় শিবরাত্রি। শিবলিঙ্গটি ১১ ফুট উঁচু। শিব মন্দির দুটি ছাড়াও চৌহদ্দির মধ্যে একটি পতিতপাবনী দুর্গার মন্দির।

জয়নারায়ণ বাবা ও মায়ের নাম অনুসারে নামকরণ করা হয় মন্দির দুটির। নাম হয় রক্তকমলেশ্বর ও কৃষ্ণচন্দ্রেরশ্বর। পরে ওই শিব মন্দিরের পাশে আরও চারটি মন্দির স্থাপন করেন তিনি। সেগুলি মকরবাহিনী গঙ্গা, পঞ্চানন দেব, রাজেশ্বর মহালিঙ্গ ও জয়কালী ভৈরব প্রভৃতি। এই সুন্দর মন্দির গুলি হিন্দু মুসলমান ও গ্রীক স্থাপত্যের নিদর্শন স্বরূপ বিরাজ করছে।

মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা রাজা জয়নারায়ণ আদতে বাকুলিয়ার ঘোষাল বংশের সন্তান(১৭৫২-১৮২১)। শোনা যায় সাধক রামপ্রসাদ ওই শিব মন্দির দর্শন করতে এসেছিলেন। তিনি এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে ১৫০ বিঘার উপর নির্মিত শিবমন্দির ও প্রাসাদের নাম রাখেন ভূকৈলাস (অর্থ পৃথিবীতে শিবের বাসস্থান কৈলাস)।

জয়নারায়ণ তিনি যেমন শিক্ষিত ছিলেন, তেমনই বিচক্ষণ এবং বহুভাষায় পারদর্শী। বাংলা, হিন্দি, পার্সি ও ইংরেজিও জানতেন। তিনি ‘provincial counsel’ নির্বাচিত হয়ে ঢাকা, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান ও পাটনা দেখাশোনার দায়িত্ব পান। দিল্লির বাদশাহ জাহাঙ্গীর তাঁকে রাজা উপাধি দেন এবং প্রচুর পরিমাণে অর্থ লাভ করেন। ভূকৈলাস রাজবাড়ীর সমস্ত সম্পত্তি এখন পতিতপাবনী মন্দিরের নামে দেবোত্তর করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে কলকাতা পুরসভা এই মন্দিরগুলিকে ‘হেরিটেজ সাইট’ হিসাবে চিহ্নিত করেন। কয়েক বছর আগে রাজ্য সরকার মন্দিরগুলি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থাও করে।

শিবরাত্রি হিন্দুধর্মের সর্বোচ্চ আরাধ্য দেবাদিদেব মহাদেব ‘শিবের মহা রাত্রি’ ব্রত। অন্ধকার আর অজ্ঞতা দূর করার জন্য এই ব্রত পালিত হয়। অগণিত ভক্ত এইদিন শিবলিঙ্গে গঙ্গাজল, দুধ, বেলপাতা, ফুল দিয়ে পূজা করে থাকে। অন্ধকার আর অজ্ঞতা দূর করার জন্য এই ব্রত পালিত হয়। অগণিত ভক্ত এইদিন শিবলিঙ্গে গঙ্গাজল, দুধ, বেলপাতা, ফুল দিয়ে পূজা করে থাকেন।