মুম্বই : স্রোতের মুখে সাঁতার দিচ্ছে এখন এশিয়ান পেইন্টস। যেখানে বেশিরভাগ সংস্থা চাহিদার অভাবে কর্মীদের ছাঁটাই অথবা বেতন কাটা কথা ভাবছে অথবা দাবি জানাচ্ছে সেখানে একেবারে উল্টো পথে হেটে ‌ দেশের সর্ববৃহৎ রঙের সংস্থা কর্মীদের মনোবল বাড়াতে বেতন বৃদ্ধি করছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্র এমনই প্রতিবেদন বের হয়েছে।

সংস্থার বিপণন ব্যবস্থাকে নানাভাবে সহায়তা করছে, যার মধ্যে রয়েছে বিমা এবং হাসপাতালের ব্যবস্থা, অংশীদারি স্টোরগুলিতে পুরোপুরি স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা এবং সরাসরি নগদ সহায়তা। এশিয়ান পেইন্টস তার কন্ট্রাকটারদের অ্যাকাউন্টে ৪০ কোটি টাকাও ট্রানস্ফার করেছে।

সংস্থার এমডি এবং সিইও অমিত সিঙ্গেল জানিয়েছেন, তারা একটা উদাহরণ তৈরি করতে চান প্রকৃত নেতৃত্বের এবং একটি সংস্থা‌ যে তার সমস্ত স্টেকহোল্ডারদের দেখাশোনা করে। তিনি জানিয়েছেন, সংস্থার পর্ষদকে সমস্ত উদ্যোগ নিয়মিতভাবে জানানো হয় এবং তাদের কাছ থেকে এই সব পদক্ষেপের বিষয়ে অনুমোদন নেওয়া হয়।‌ তার অভিমত, সুযোগ রয়েছে প্রতিটি কর্মীর সঙ্গে আলোচনা করার এবং ব্যবস্থা নেওয়ার।

এই অনিশ্চিত পরিমণ্ডলে তাদের প্রয়োজনীয় আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। পরিচিত ব্র্যান্ড হিসেবে তারা কোনভাবেই দুমদাম নিয়োগ করে ছাঁটাইয়ের কথা ভাবে না বরং কর্মীদের আশ্বাস দেওয়া হয় তারা সকলে একজোট হয়ে পাশে রয়েছেন।

এই সংস্থাটি ৩৫ কোটি টাকা কেন্দ্র ও রাজ্যের কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিলে দান করেছে। তাছাড়া এই সংস্থাটি স্যানিটাইজার উৎপাদন শুরু করেছে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য। পণ্যের ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ করে সানিটাইজার তৈরি করে এশিয়ান পেইন্টস এবার গ্রাহকদের ওয়ালেটের তাদের শেয়ার বাড়িয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি এই সংস্থা নজর রাখছে তাদের খরচ এবং নগদে যোগানের দিকটাতেও। বছরের পর বছর ঋণমুক্ত থাকায় আগামী চার পাঁচ মাস অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকলেও তারা মোটের ওপর স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবেন।

আর তারই জন্য মার্চ মাসে শেয়ারহোল্ডারদের কথা ভেবে বড়োসড়ো ডিভিডেন্ট ঘোষণা করেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৩০ ডলারের তলায় নেমে যাওয়ায় সুবিধা হয়েছে এই সংস্থাটির কারণ কাঁচামালের খরচ ৩০-৩৫ শতাংশই লাগে অপরিশোধত তেলের জন্য। তবে করোনা ভাইরাস জনিত কারণে ‌ নানা বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সংস্থার বিক্রি পরিমাণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প