সুরাত: ক’দিন আগে ইডেনে গোলাপি বলে দিন রাতের টেস্টের প্রস্তুতির ফাঁকে প্রাক্তন শ্রীলঙ্কান অল-রাউন্ডার জয়সূর্য্যর বোলিং অ্যাকশন হুবহু নকল করছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও ভাইরাল হতে বিশেষ সময় লাগেনি। এবার সৈয়দ মুস্তাক আলি টি-২০’র ফাইনালে অশ্বিনের আরও কিছু ভিডিও নেটিজেনদের চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লালাভাই কন্ট্রাক্টর স্টেডিয়ামে মুস্তাক আলির ফাইনালে কর্ণাটকের মুখোমুখি হয় তামিলনাড়ু। ম্যাচে তামিলনাড়ু হয়ে নতুন বলে দৌড় শুরু করেন অশ্বিন। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে পর পর দু’বলে অশ্বিন আউট করেন লোকেশ রাহুল ও ময়াঙ্ক আগরওয়ালকে। ঠিক তার পরেই অশ্বিন হুবহু ইমরান তাহিরের মতো সেলিব্রেশনে মেতে ওঠেন। মাঠের অনেকটা জুড়ে দৌড়ে প্রোটিয়া স্পিনার তাহির যেভাবে নিজের সাফল্য উদযাপন করেন, ঠিক তেমনই অশ্বিনও সেলিব্রেট করেন পর পর দু’বলে জাতীয় দলের দুই সতীর্থকে ফিরিয়ে দিয়ে।

স্বাভাবিকভাবেই নেটিজেনদের নজর এড়ায়নি ঘটনাটি। ম্যাচে আরও দু’টি ক্ষেত্রে অশ্বিনকে আবেগ প্রকাশ করতে দেখা যায়। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৩ রান প্রয়োজন ছিল তামিলনাড়ুর। ওভারের প্রথম দুটি বলে পর পর দু’টি বাউন্ডারি মারেন অশ্বি। তার পর মুশফিকুর রহিমের মতো হাত মুঠো করে দৃঢ়প্রত্যয়ী একটা অভিব্যক্তি দেখা যায় অশ্বিনের মধ্যে। ২০১৬ সালে ভারতের বিরুদ্ধে টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচে জয়ের আগেই যেভাবে সেলিব্রেট করেছিলেন মুশফিকুর, ঠিক সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি দেখা যায় সুরাটে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মধ্যে।

১৯তম ওভারের শেষ বলে ক্রিজের অপর প্রান্তের সেট ব্যাটসম্যান বিজয় শংকরের দু’রান নেওয়ার আবেদনে সাড়া দেননি অশ্বিন। মহেন্দ্র সিং ধোনিকে ঠিক এভাবেই নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিতে দেখা যায়, যেমনটা অশ্বিনকে এদিন শেষ ওভারে ব্যাট করার ইচ্ছা প্রকাশ করতে দেখা যায়। ধোনির মতোই অকুতোভয় চিত্তে হেলমেট ছাড়াই শেষ ওভার ব্যাট করেন অশ্বিন।

ম্যাচের শেষ বলে জয়ের জন্য তিন রান প্রয়োজন ছিল তামিলনাড়ুর। দু’রান নিলে ম্যাচ সুপার ওভারে গড়াত। যাতে দৌড়োতে সুবিধা হয় তাই নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা রবিচন্দ্রন নিজের প্যাডজোড়া খুলে ফেলেন। এখানেও অশ্বিনের মধ্যে ধোনির ছায়া দেখছেন অনেকে।

এতসব করেও অশ্বিন ম্যাচে জয় এনে দিতে পারেননি দলকে। তামিলনাড়ু ফাইনালে ১ রানের ব্যবধানে হার মানে। কর্ণাটক সৈয়দ মুস্তাক আলি টি-২০’র খেতাব ধরে রাখে আরও এক বছরের জন্য।