স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: বৃদ্ধ দম্পতির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য উত্তর ২৪ পরগনার অশোক নগরে। দম্পতির শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অশোকনগর থানার হাট ন’পাড়া শ্মশান এলাকার ঘটনা। বাড়ি থেকেই বৃদ্ধ দম্পতির দেহ উদ্ধার হয়৷ মৃতের নাম মদন নন্দী ও অর্চনা নন্দী৷

পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, বৃদ্ধের প্রথম পক্ষের স্ত্রীর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে৷ ওই দুই ছেলে-মেয়ে কলকাতায় থাকেন৷ তবে মাঝে মধ্যে অশোকনগরের এই বাড়িতে আসতেন তাঁরা। বছর তিরিশ আগে মদন নন্দীর প্রথম পক্ষের স্ত্রীর মৃত্যুর পর অর্চনা নন্দী নামে এই মহিলাকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের একটি ছেলেও রয়েছে । বয়স্ক মদন নন্দী ও তাঁর স্ত্রীকে নিয়েই অশোকনগরের বাড়িতে থাকতেন মদন নন্দীর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর সন্তান দীপঙ্কর নন্দী। দীপঙ্কর রবিবার দুপুরে পিকনিকে যান। পিকনিক থেকে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। পরে পাড়ার ক্লাবে ভলিবল খেলতে যান দীপঙ্কর।

বাড়ি ফিরে বৃদ্ধ বাবা-মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন বলে দাবি দীপঙ্করের। পরে প্রতিবেশীদের গোটা ঘটনা জানান তিনি। খবর পেযে অশোকনগরের ওই বাড়িতে যায় পুলিশ। রক্তাক্ত দেহ দুটি উদ্ধার করে অশোকনগর হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।

সোমবার সকাল থেকে মদন নন্দীর বাড়ির সামনে ভিড় বাড়তে থাকে এলাকাবাসীর। আচমকা ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় সকলেই হতচকিত। নিহত মদন নন্দীর বাড়ির কাচেই রয়েছে আমবাগান। সোমবার সকালে সেই বাগানে গিয়ে দেখা গেল সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে মদের গ্লাস, মদের বোতল।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, এই চত্বরে অবাধ যাতায়াত দুষ্কৃতীদের। সন্ধের পর থেকে মহিলারা এই এলাকা থেকে যেতে ভয় পান। এর আগেও এই এলাকায় একাধিক শ্লীলতাহানি বা ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটেছে। দিনে ও রাতে একইভাবে এই এলাকায় দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য চলে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই এলাকায় রাস্তার আলো বন্ধ করে দিয়েও দৌরাত্ম্য় চালায় দুষ্কৃতীরা। পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয় না বলেও অভিযোগ বাসিন্দাদের। দুষ্কৃতীদের ভয়েই কেউ প্রতিবাদ করেন না বলে দাবি বাসিন্দাদের একাংশের।

এদিকে, মদন নন্দী ও তাঁর স্ত্রীর খুনের পিছনে ঠিক কী কারণ লুকিয়ে রয়েছে, সেই সম্পর্কে এখনও কোনও স্পষ্ট কোনও ধারনা দিতে পারেনি পুলিশ। যদিও প্রাথমিক তদন্তে এটিকে খুন বলেই দাবি পুলিশের। অন্যদিকে, বৃদ্ধ দম্পতি খুনে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে সোমবার সকালে এলাকার বাসিন্দারা রাজীবপুর মোড়ে পথ অবরোধ করেন। পরে অশোকনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধ তুলে দেয়।