অশোকনগর:  দিনের পর দিন বৌদির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক। আর তা জেনে ফেলাই কি কাল হল! গলায় ফাঁস দিয়ে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগণার কচুয়া সুকান্ত সরণী এলাকায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। যদিও ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে অশোকনগর থানার পুলিশ। ইতিমধ্যে মূল অভিযুক্ত মৃত মহিলার স্বামী শঙ্কু দে’কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, গত ৬ বছর আগে শংকুর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল লিপিকার। তারা দুজনেই অশোকনগরের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। কিন্তু কিছুদিন পর লিপিকা জানতে পারে যে তাঁর স্বামীর সঙ্গে বৌদির সম্পর্ক রয়েছে। আর এর প্রতিবাদ করায় মাঝে মধ্যেই লিপিকাকে মারধর করা হতো বলে অভিযোগ তাঁর পরিবারের। অনেক সময় স্বামী শঙ্কু মেরে শরীরে কালো দাগ ফেলে দিত বলেও দাবি করেছেন লিপিকার পরিবার। বৃহস্পতিবার রাতেও একই ভাবে লিপিকার উপর অত্যাচার করা হয় বলে অভিযোগ তাঁর পরিবারের। আর মারের চোটের ফলেই লিপিকার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি।

পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে তাঁদের বলা হয় যে লিপিকার শরীর ভালো নয়। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর তা জানতে পেরেই হাসপাতালে ছুটে যান পরিবারের লোকজন। সেখানে গিয়ে পরিবারের লোকজন লিপিকাকে মৃত অবস্থাতে পড়ে থাকতে দেখে বলে দাবি। এরপরই তাঁরা অশোকনগর থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। রাতেই গ্রেফতার করা হয় স্বামী শঙ্কু দে’কে। যদিও পরিবারের বাকি সদস্য পলাতক।

অন্যদিকে। লিপিকার দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। লিপিকার পরিবারের দাবি, মাস দেড়েক আগেই স্বামী-স্ত্রীর অশান্তি মেটাতে গিয়ে চূড়ান্ত অপমানিত হতে হয়েছিল লিপিকার দিদি-জামাইবাবুকে। আর সেই অপমানে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন লিপিকার দিদি, এমনটাই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। সেই ঘটনার পর থেকেই লিপিকার গোটা পরিবার প্রচন্ড মানসিক চাপে ছিল। শুধু তাই নয়, ঘটনার পর থেকে লিপিকাও প্রচন্ড মানসিক চাপে ছিল বলে দাবি পরিবারের।