ছবি: ট্যুইটারের সৌজন্যে

কলকাতা: নেপোটিজম শুধু বলিউডে নয়। টলিউডের বহুদিন ধরে চলে আসছে নেপোটিজম বা স্বজনপোষণ। নিজের ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওতে এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। অভিযোগ করেছেন একসময় কোন অভিনেতা পরিচালক বা প্রযোজকের সঙ্গে প্রেম করতে পারেননি বলে প্রধান অভিনেত্রীর চরিত্রে জায়গা পাননি টলিউডে।

আর তাঁদের মধ্যে শ্রীলেখার অভিযোগের তির প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা টির দিকে। অভিনেত্রীর দাবি একসময় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সঙ্গে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের প্রেম ছিল। আর তাই নায়িকা হওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। প্রসেনজিৎ শুধুই প্রত্যেকটি ছবিতে ঋতুপর্ণাকে রেফার করতেন বলে দাবি করেছেন শ্রীলেখা।

আরও লিখুন: ‘প্রসেনজিতের সঙ্গে তখন ঋতুর প্রেম, তাই নায়িকার চরিত্র পাইনি’, নেপোটিজম নিয়ে বোমা ফাটালেন শ্রীলেখা

শ্রীলেখার এই বিস্ফোরক মন্তব্য মুহূর্তে টলিউডের ছড়িয়ে পড়ে। প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা ছাড়াও বলিউডের প্রথম সারির শিল্পীদের নামেও বিভিন্ন অভিযোগ এনেছেন শ্রীলেখা। নাম জড়ায় এসকে মুভিজের অশোক ধানুকারও। এক সংবাদমাধ্যমের কাছে অশোক ধানুকা এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।

এসকে মুভিজের ছবি অন্নদাতা-তে প্রথম নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন শ্রীলেখা মিত্র। বিপরীতে ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

আরও লিখুন: ‘প্রসেনজিৎ, অনুপম, যীশুরাও কী শুয়ে কাজ পান?’ এবার বিস্ফোরক স্বস্তিকা

অভিনেত্রী তার ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও জানান, অশোক ধানুকার অন্নদাতা ছবির নায়িকার চরিত্রে তিনি সই করেন। খুব আনন্দ পেয়েছিলেন প্রথম বাংলা ছবিতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করার সুযোগ পেয়ে। কিন্তু অশোক ধানুকা ফোন করে জানান, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে ছবি করতে চান না। কারণ তিনি মনে করেন শ্রীলেখা নায়িকা হলে কেউ টাকা দিয়ে সিনেমা হলে যাবেন না।

শ্রীলেখা জানান এর পরে একদিন স্টুডিওতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে দেখে এড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। বদলে ফিরদৌসের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এবং তার কিছুদিন পরেই অশোক ধানুকা এবং খোদ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ফোন করে জানান, অন্নদাতা ছবিতে শ্রীলেখাই কাজ করছেন।

এই প্রসঙ্গে অশোক ধানুকা জানিয়েছেন, তিনি প্রথমে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকেই অন্নদাতা ছবির জন্য যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় ঋতুপর্ণা এদেশে ছিলেন না, আমেরিকায় ছিলেন। তাই শ্রীলেখাকে এই ছবির অফার দেওয়া হয়েছিল। তাছাড়া সেই সময় যাদেরকে মানুষ দেখতে পছন্দ করতেন তাদেরকে এই সিনেমায় কাস্ট করা হতো বলে জানিয়েছেন অশোক ধানুকা। সেজন্যই সেভাবে শ্রীলেখার উপরে ভরসা করতে পারছিলেন না। প্রযোজকের কথায়, প্রসেনজিৎ ও ঋতুপর্ণার জুটি মানুষ পছন্দ করত বলেই তাদের নেওয়া। প্রসেনজিৎ কখনোই বলে দেননি কাকে নিতে হবে।

অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ এনেছেন শ্রীলেখা। তিনি বলেছেন ঋতুপর্ণা শুটিং সেটে সব সময় দেরিতে আসতেন। কিন্তু তবুও তাঁকেই প্রত্যেকটি ছবিতে নেওয়া হতো। এমনকি শ্রীলেখা এও বলেছেন, তিনি যখন অর্জুন চক্রবর্তীর পরিচালনায় টলিলাইটস ছবিতে অভিনয় করছেন। তখনো ঋতুপর্ণা পরিচালককে ফোন করে শ্রীলেখাকে বাদ দিতে বলেছিলেন নিজে সেই চরিত্রে অভিনয় করতে চেয়ে ছিলেন। যদিও ছবিটি শেষ পর্যন্ত শ্রীলেখাই করেন।

ঋতুপর্ণার সম্পর্কে শ্রীলেখা বলছেন, “আমরা অনেকেই সমালোচনা করি। কিন্তু ঋতুকে আমি কখনো দেখিনি কারণ আমি কোনো খারাপ কথা বলতে। খুব চালাক ও। ও সবার সঙ্গে যেকোনো বয়সের মানুষের সঙ্গে খুব মিষ্টি করে কথা বলে মোহিত করে দিতে পারে।”

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন একটি সংবাদমাধ্যমের কাছে। তিনি বলেছেন ২০০১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা জুটির আর কোনও ছবি হয়নি। তার পরেও তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে নিজে বিভিন্ন ছবি করে টিকে থাকতে পেরেছেন। তবে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোথাও কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ