লন্ডন: গত মরশুমে ডার্বি কাউন্টি ফুটবল ক্লাবের হয়ে খেলেছেন চেলসি তথা জাতীয় দলে তাঁর একসময়ের সহযোদ্ধা ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের কোচিংয়ে। বিশ্বফুটবলে এমন ঘটনা সচরাচর নয়।

সে যাইহোক। তিনটি প্রিমিয়র লিগ, সাতটি এফএ কাপ, একটি লিগ কাপ, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেতাব সহ সমৃদ্ধ তাঁর ক্লাব ফুটবল কেরিয়ার। এফএ কাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ফুটবলার হিসেবে অভিহিত করা হয় তাঁকে। ক্লাব ফুটবলে বিশ বছরের সেই বৈচিত্র্যময় কেরিয়ারে অবশেষে ইতি টানলেন প্রাক্তন ইংরেজ ডিফেন্ডার অ্যাশলে কোল। রবিবার ক্লাব ফুটবল থেকে পাকাপাকি অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন এই লেফট ব্যাক।

অবসর পরবর্তী সময়ে নিজেকে পুরোপুরি কোচিংয়ে নিয়োজিত রাখতে চান সিনিয়র ফুটবল কেরিয়ারে ৫০৮ ম্যাচ খেলা অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার । ১৯৯৯ আর্সেনালের হয়ে সিনিয়র কেরিয়ার শুরু করার পর খেলেছেন চেলসি, রোমা, লা গ্যালাক্সির মত প্রথিতযশা ক্লাবে। ২০১৮-১৯ মরশুমের ক্লাবের ফুটবলার থাকার পাশাপাশি ডার্বি কাউন্টির ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বও সামলেছেন কোল। এমনকি ডার্বি কাউন্টির চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে পৌঁছনোর পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। তবে মরশুম শেষের পর ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ডিভিশন ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি পুনর্নবীকরনের পথে হাঁটেননি তিনি।

আরও পড়ুন: মরশুমের তৃতীয় ম্যাচেও জয় অধরা চেলসির

বিদায়বেলায় স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক বার্তায় কোল জানিয়েছেন, ‘অনেক চিন্তাভাবনার পর মনে হল বুটজোড়া তুলে রাখার এটাই সঠিক সময়। জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছি।’ জাতীয় দলের জার্সিতে ১০৭ ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করা কোল আর্সেনালের হয়ে দু’বার প্রিমিয়র লিগ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন। এরমধ্যে ২০০৩-০৪ মরশুমে অপরাজিত লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল গানার্সরা। ২০০৬ চেলসিতে যোগদানের পর ২০০৯-১০ ব্লুজ’দের হয়ে ফের একবার প্রিমিয়র লিগ জয়ের স্বাদ পান কোল। এরপর ২০১১-১২ মরশুমে লন্ডনের ক্লাবটির হয়ে কাঙ্খিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতেন অভিজ্ঞ লেফট ব্যাক। পরের মরশুমে জিতেছিলেন ইউরোপা লিগও।

আরও পড়ুন: ফের সোনা জয় হিমার

তাদের জার্সিতে ২২৯ ম্যাচ খেলা ইংরেজ ডিফেন্ডারের জন্য তাই ক্লাবের দরজা সবসময় খোলা রেখেছে চেলসি কর্তৃপক্ষ। কোচ হিসেবে চলতি মরশুমে প্রাক্তনী ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড ও উপদেষ্টা হিসেবে প্রাক্তনী পিটার চেককে দায়িত্ব দেওয়ার পর আগামিদিনে কোলকেও কোচিং স্টাফ হিসেবে জায়গা দিতে প্রস্তুত লন্ডনের ক্লাবটি।