হাওড়া: মঙ্গলবার আষাঢ়ী পূর্ণিমা তথা গুরুপূর্ণিমা। প্রতিবছরের মতো এ বছরও গুরুপূর্ণিমা উপলক্ষে বেলুড় মঠ প্রাঙ্গনে হাজার হাজার ভক্তের ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে৷ মঙ্গলবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা হাজির হন বেলুড় রামকৃষ্ণ মঠে। আজকের এই বিশেষ দিনে সকলেই চান তাদের প্রণম্য গুরুদেবকে একবার দর্শন করতে। সেই বাসনা উপলব্ধি নিয়েই মনের টানে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা ভোর থেকে দীর্ঘ লাইন দিয়ে প্রতীক্ষা করেছেন তাদের প্রিয় গুরুদেব স্বামী স্মরণানন্দজীকে দর্শনের জন্য।

এদিন বেলুড় মঠে ভক্তদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। তাদের কারও হাতে ছিল পদ্মফুল। কারও হাতে ছিল মালা। কেউবা এসেছেন ফুলের অর্ঘ্য সাজিয়ে। সকলেই একবার চান তাদের প্রিয় গুরুদেবকে একবার দর্শন করতে। গুরুদেবকে দর্শনের মধ্য দিয়েই ঈশ্বরকে লাভ করার ইচ্ছা তাঁদের। ভক্তদের কথায়, গুরুদেবকে দর্শনেই মনের শান্তি। এবং সেই উপলব্ধি নিয়ে তারা এসেছেন বেলুড় মঠে।

বালির সরখেল পাড়ার বাসিন্দা শুক্লা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এটা একটা মনের শান্তি। আমরা ভগবানকে তো সামনাসামনি দেখতে পাই না। তার প্রতিরূপ হিসেবে আমরা গুরুদেবকে দর্শনের মাধ্যমে মনের শান্তি পাই। এই উপলব্ধি ভাষায় প্রকাশ করা যায়না। গুরুদেবের স্পর্শ তো পাওয়া যায় না। দর্শনেই শান্তি লাভ করা যায়। যতদিন পারব ততদিন বেলুড় মঠে আসব।

আরেক ভক্ত ইপ্সিতা বসু বলেন, আমি কর্নাটকের বাসিন্দা। কলকাতায় এলেই বেলুড় মঠে আসি। গুরুদেবের দর্শনলাভের জন্যই বেলুড় মঠে আসা। আজকে যেহেতু গুরুপূর্ণিমা এই পুণ্য দিনে গুরুদেবের দর্শন পাওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। আমি বেলুড় মঠে দীক্ষা নিয়েছি। তাই আজকে আমি এখানে এসে গুরুদেবকে দেখতে পাবো সেই আশা নিয়ে এসেছি।

বজবজ এর বাসিন্দা সোমা বিশ্বাস বলেন, প্রতি একাদশীতে বেলুড় মঠে আসা হয়। আজকে গুরুপূর্ণিমা উপলক্ষে গুরুদেবের দর্শনের জন্য এসেছি। সকাল থেকে অপেক্ষা করছি একবার গুরুদেবের দর্শনের জন্য।