হায়দরাবাদ: মেঘের মধ্যে ধরা পড়ে না ব়্যাডার৷ মোদীর সেই তত্ত্বের কথা মনে করিয়ে নিখোঁজ বিমানের খোঁজ পেতে বায়ুসেনাকে তাঁরই দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিলেন আসাদুদ্দিন ওয়াইসি৷ ব্যঙ্গের সুরে জানান, মোদী যদি ওই কথা বলতে পারেন তাহলে নিখোঁজ বিমানের সঠিক অবস্থানও আশা করি বলতে পারবেন৷

৩ জুন থেকে নিখোঁজ বায়ুসেনার বিমান৷ ১৩ জন যাত্রীকে নিয়ে মাঝ আকাশে রহস্যজনক ভাবে হারিয়ে যায় বিমানটি৷ হদিশ পেতে চলছে তল্লাশি৷ বিমানের খোঁজ পেতে বায়ুসেনাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বারস্থ হতে বললেন আসাদুদ্দিন ওয়াইসি৷ বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী বড় মাপের বিজ্ঞানী৷ মেঘের মধ্যে ব়্যাডার কাজ করে না এটা তারই তত্ত্ব ছিল৷ তাঁরই কথামতো ধরা না পড়ার নিশ্চিন্তে বিমান শত্রু দেশে ঢুকে পড়ে বায়ুসেনা৷ এদিকে ৩ জুন থেকে নিখোঁজ বায়ুসেনার বিমান৷ বিমানের খোঁজ দিতে পারলে পাঁচ লক্ষ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা করা হয়েছে৷ কিন্তু এই পুরস্কারের ঘোষণা করার কোনও দরকার ছিল না৷ বায়ুসেনা একবার মোদীকেই তো জিজ্ঞেস করতে পারত৷ এতে পাঁচ লক্ষ টাকাও বেঁচে যেত৷’’

উল্লেখ্য এএন-৩২ মডেলের বিমানের খোঁজ পেতে তল্লাশি অভিযানে নামানো হয় সুখোইকে৷ অভিযান আশানুরূপ না হওয়ায় এবার নিখোঁজ বিমানের সন্ধান পেতে পুরস্কারের ঘোষণা করল বায়ুসেনা৷ শনিবার ভারতীয় বায়ুসেনার ঘোষণা, নিখোঁজ বিমানটির কেউ কোনও খোঁজ দিতে পারলে পাঁচ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে৷ যিনি বিমানটির বিষয়ে কোনও খোঁজ দিতে পারবেন তাঁকে কয়েকটি নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে৷ নম্বরগুলি হল ০৩৭৮-৩২২২১৬৪৷ এছাড়া মোবাইল নম্বর গুলি হল ৯৪৩৬৪৯৯৪৭৭ অথবা ৯৪০২০৭৭২৬৭ অথবা ৯৪০২১৩২৪৭৭৷ বিমানের খোঁজ পেতে নেভি স্পাই প্লেন ও ইসরো স্যালেটাইটের সাহায্যে নেওয়া হয়েছে৷

অতীতে বেশ কয়েকবার দূর্ঘটনার কবলে পড়ে এএন-৩২ বিমানটি৷ বায়ুসেনার নথি ঘেঁটে জানা গিয়েছে, ১৯৯০ সালের ১৫ জুলাই তিরুঅনন্তপুরম যাওয়ার পথে ভেঙে পড়ে বিমানটি৷ এরপর ২০০৯ সালের ১০ জুন সেই অরুণাচল প্রদেশের মেনচুকায় যাওয়ার সময় ১৩ জন যাত্রীকে নিয়ে ভেঙে পড়ে বিমানটি৷ দুর্ঘটনায় সকল যাত্রীর মৃত্যু হয়৷ ২০১৬ সালে ২৯জন যাত্রীকে নিয়ে চেন্নাই থেকে পোর্টব্লেয়ার যাওয়ার পথে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় বিমানটি৷