নয়াদিল্লি: দিল্লির জামিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলিকাণ্ডে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করলেন মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। সম্প্রতি দিল্লিতে নির্বাচনী প্রচারে বিরোধীদের গুলি করে মারার হুমকি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। অনুরাগের সেই হুমকির জেরেই জামিয়ায় হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসির। তিনি বলেন, ‘অনুরাগ ঠাকুর-সহ কয়েকজন বিজেপি নেতা দেশজুড়ে ঘৃণার আবহ তৈরি করেছেন। পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে এক পড়ুয়াকে গুলি করছে। পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।’ একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও কটাক্ষ করেছেন ওয়েইসি। মোদীকে নিশানা করে ওয়েইসি বলেন, ‘এবার পোশাক দেখে হামলাকারীকে চিহ্নিত করতে পেরেছেন তো!’

বৃহস্পতিবার দুপুরে দিল্লিতে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে আন্দোলনকারীদের লক্ষ করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। প্রথমে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।
এদিন গুলি চালানোর আগে একাধিক ফেসবুক লাইভ করে ওই ব্যক্তি। সে হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে যাচ্ছে,এই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে ফেসবুক লাইভে। একটি পোস্টে সে লিখেছে, ‘শাহিন বাগ, খেল খতম।’

এদিকে, আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টুইটে এদিন বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার কোনওভাবেই এই ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করবে না।’ অমিত শাহের টুইটের পরই পালটা টুইট করেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। কয়েক মিনিটের মধ্যেই টুইটে অরবিন্দ কেজরিওয়াল অমিত শাহের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিন।’

এদিন জামিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভকারীদের রাজঘাটে যাওয়ার আগেই আটকে দেওয়া হয়। পুলিশের সঙ্গে কার্যত ধস্তাধস্তি বেঁধে যায় তাঁদের। পরে বিক্ষোভকারীদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবার জামিয়া কো-অর্ডিনেশন কমিটির তরফে সিএএ, এনআরসি বিরোধী মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। মিছিলটি জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজঘাট পর্যন্ত যাওয়ার কথা ছিল। মিছিলে এক যুবককে হাতে রিভলভার নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পরে মিছিল লক্ষ্য করে গুলিও চালায় সে। গুলিবিদ্ধ হন এক আন্দোলনকারী।

প্রতিবাদকারীদের মিছিলে গুলি চালানো নিয়ে বিজেপিকে তুলোধনা করেছে বিরোধীরা। দিল্লি পুলিশকে কাঠগড়ায় তুলেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। মিছিলে পুলিশ থাকলেও হামলা আটকাতে পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ। দিল্লি পুলিশকে নিশানা করে টুইটার হ্যান্ডেলে কংগ্রেসের কটাক্ষ, ‘অমিত শাহ কী ধরণের পুলিশ চালাচ্ছেন? শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালানো হল, পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তা দেখল।’

অন্যদিকে, জামিয়ায় গুলিকাণ্ডে মুখ খুলেছেন মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসিও। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ওয়েইসি। অনুরাগের মন্তব্যেরই ফল বৃহস্পতিবারের এই ঘটনা, এমনই মন্তব্য ওয়েইসির। একইসঙ্গে এর আগে পোশাক দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর একটি মন্তব্যেরও উল্লেখ করেছেন ওয়েইসি।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।