নয়াদিল্লি: চিনকে সামনে রেখে বড় বড় কথা বলতে শুরু করেছিল পাকিস্তান৷ কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর থেকেই তর্জন গর্জন শুরু হয়েছিল পাকিস্তানের৷ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিল ইসলামাবাদ যে পাকিস্তান এবার চিনের সমর্থন নিয়ে তারপরই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে ভারতের নেওয়া কাশ্মীরের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবে। যে সিদ্ধান্তের ফলে কাশ্মীর তার বহুযুগ পুরনো ‘স্পেশাল স্ট্যাটাস’ হারিয়েছে। পাক-অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে শুরু হয়েছে লড়াই।

সেই গর্জনের পালটা দিতে তৈরি ভারত৷ কৌশলী চালে ইসলামাবাদের পাশা উলটে দিতে তৈরি নয়াদিল্লি৷ চিনকে নিজেদের পাশে পেতে এবার বেজিং যাত্রা করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর৷ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের প্রেসিডেন্ট জি জিংপিনের মধ্যে দ্বিতীয় সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়ে কথা বলতেই মূলত তাঁর এই সফর৷

আরও পড়ুন : ‘গোর্খাল্যান্ড’ কে সমর্থন অমিত শাহের, অস্বস্তিতে রাজ্য বিজেপি

তবে আন্তর্জাতিক মহলের মতে জয়শঙ্করের এই চিন সফরে বেশ চাপে পাকিস্তান৷ চিনের বিদেশ মন্ত্রী ওয়াং ইয়ি ও জয়শঙ্করের মধ্যে সোমবার একটি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে৷ ১১ থেকে ১৩-এই তিনদিনের চিন সফরে বেশ কিছু কর্মসূচি রয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রীর৷

এই সফরের আগে চিনকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু বলে সম্বোধন করে নয়াদিল্লি৷ ফলে ভারত ও চিনের মধ্যে এক নতুন সম্পর্কের রসায়নের ইঙ্গিত দেখছে আন্তর্জাতিক মহল৷ এতেই বেশ কিছুটা চাপে পাকিস্তান৷ বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রবিশ কুমার রবিবার বলেন, সব ক্ষেত্রে চিন ভারতের অন্যতম বন্ধু৷ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতেই বিদেশমন্ত্রীর চিন সফর বলে উল্লেখ করেন তিনি৷

এর আগে,সাংহাই কোঅপারেশন সামিটে কিরঘিজস্তানের বিশকেকে চিনা প্রেসিডেন্ট ও নরেন্দ্র মোদীর সাক্ষাত হয়েছিল৷ ইয়ুহানের সামিটের পর মোট চারবার দুই রাষ্ট্রনেতার সাক্ষাত হয়৷ পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “পাক-সরকার এই বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে যাবে। তবে তার জন্য চিনের সাহায্য প্রয়োজনীয়।” এই বিষয়ে চিনের কি বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চিন পূর্ণ সমর্থন দিয়ে পাকিস্তানকে আশ্বস্ত করেছে।”

আরও পড়ুন : কৃষ্ণ-অর্জুনের কথা মনে করায় মোদী-শাহ জুটি: রজনীকান্ত

এই বিষয়ে সমর্থন চেয়ে পাকিস্তান সরকার, ইন্দোনেশিয়া ও পোল্যান্ডের সাথেও কথা বলার কথা ভেবেছিলেন বলে জানান। এই দুই দেশই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের অস্থায়ী সদস্য।

তবে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ জয়শঙ্করের চিন সফরের পরে কতটা কার্যকরী হবে, সে নিয়ে অবশ্য সন্দেহ রয়েছে৷ কুরেশি আরও বলেন, ”নরেন্দ্র মোদী বিপজ্জনক খেলা খেলছেন। ওনার উদ্দেশ্য ভয়ঙ্কর।” তাঁর দাবি, পাকিস্তানের ইচ্ছা ছিল কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হোক। কিন্তু ভারতের তেমন কোনও ইচ্ছা নেই।

তবে চিনের পক্ষ থেকে কাশ্মীর নিয়ে ভারতের পদক্ষেপকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়নি৷ তবে এর পালটা দিয়ে নয়াদিল্লি জানায়, কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে যেমন ভারত নাক গলায় না, ভারতও আশা করবে, অন্য কোনও তৃতীয় শক্তি যেন ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক না গলায়৷