নয়াদিল্লি: বিদেশ সফরে গিয়ে বারবারই নাম না করে সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে পাকিস্তানকে বিদ্ধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ কিরঘিজস্থানে হতে চলা সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও সামিটেও এই প্রসঙ্গে মুখ খুলবেন প্রধানমন্ত্রী, তা নিয়ে সন্দেহ ছিল না কোনও মহলেরই৷ তবে এই ইস্যুতে যেন পাকিস্তানকে আক্রমণ না করা হয়, তার আবেদন জানিয়েছে চিন৷

বেজিংয়ের দাবি এসসিও সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে পাকিস্তানকে আক্রমণ করার সঠিক জায়গা নয়৷ চিনের উপবিদেশমন্ত্রী ঝাং হানহুই সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, এই সম্মেলন মূলত আন্তর্জাতিক স্তরে দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির উদ্দ্যেশ্য নিয়ে আয়োজিত৷ কোনও নির্দিষ্ট দেশকে কোণঠাসা করা এই মঞ্চের লক্ষ্য নয়৷ তাই সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে পাকিস্তানকে এই মঞ্চে একঘরে করার সিদ্ধান্ত অন্যায় ও অনৈতিক৷

আরও পড়ুন : দিল্লিতে দোভাল-অমিত শাহের বিশেষ বৈঠক, আলোচনায় থাকবে বাংলার সন্ত্রাস

উল্লেখ্য, এই টানাপোড়েনের মধ্যেই বৈঠকে বসতে পারেন ভারত এবং চিনের রাষ্ট্রপ্রধানরা৷ জুলাইতে সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশনের অনুষ্ঠান রয়েছে। আর সেই অনুষ্ঠানের মাঝেই বৈঠকে বসতে পারেন তাঁরা বলে সূত্রের খবর৷ সীমান্ত সমস্যা সহ একাধিক বিষয়ে চিনের সঙ্গে সমস্যা রয়েছে ভারতের। এই অবস্থায় ভারত এবং চিনের মধ্যে বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।

সেই বৈঠকেও পাকিস্তান প্রসঙ্গ উঠে আসতে পারে বলে মত রাজনৈতিক মহলের৷ সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশন শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে কিরগিজস্তানে উড়ে যাবেন চিনের প্রেসিডেন্ট জি জিংপিং। আগামী মাসের শুরুতেই কিরগিজস্তানের দিকে উড়ে যাবেন তিনি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। বিপুল ক্ষমতা নিয়ে ফের দিল্লির মসনদে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দ্বিতীয় মোদী সরকারের মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। দ্বিতীয় মোদী সরকারের আমলে চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এটাই প্রথম সাক্ষাৎ হতে চলেছে নরেন্দ্র মোদীর।

আরও পড়ুন : কাঠুয়া গণধর্ষন মামলায় পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করল আদালত

গত ২০১৭ সালে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভারত এবং চিনের সম্পর্ক। ডোকালাম ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পরিস্থিতি। সীমান্তের দুপাড়ে কার্যত যুদ্ধের পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ছিল ভারত এবং চিনের সেনাবাহিনী। এরপরই ২৭ ও ২৮ এপ্রিলের ওই শীর্ষ সম্মেলনে মুখোমুখি হন মোদী ও জিনপিং। এরপরেই ভারত এবং চিনের সম্পর্ক অন্য মাত্রা নেয়।

গত বছরের ডিসেম্বরে মোদীর সঙ্গে জিনপিং-এর সাক্ষাৎ হয় আর্জেন্টিনার জি-২০ শীর্ষ সম্মেল‌নে। এই বৈঠকে সবরকম পরিস্থিতিতে ভারতের পাশে থাকার বার্তা দেয় চিন। সম্প্রতি মাসুদ আজহার ইস্যুতে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে চিন। তবে নতুন করে পালটি খেয়ে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে দাদাগিরি শুরু করতে চলেছে কীনা বেজিং, সে নিয়ে অবশ্য সন্দেহ তৈরি হচ্ছে৷