নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: এক্সিট পোল প্রকাশের পরের দিনের বড় ঝটকা তৃণমূল শিবিরে। দুই জন বিদায়ী সাংসদ এবং সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী যোগাযোগ করলেন বিজেপি শিবিরে।

সোমবার বিকেলের দিকে এই খবর প্রকাশ করেছে সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম টাইমস নাউ। তাদের দাবি, ওই দুই তৃণমূলের সাংসদপদপ্রার্থী এদিন দিল্লিতে বিজেপির জাতীয় স্তরের নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এদিন দুপুর দু’টো থেকে আড়াইটের মধ্যে তাঁরা ফোনের মাধ্যমে ওই বার্তালাপ করেছেন বলে দাবি করছে টাইমস নাউ।

পড়ুন: সম্ভাবনা দেখেই রাজ্যে ইনভেস্ট করেছিল বিজেপি: দিলীপ ঘোষ

কিন্তু ওই দুই সাংসদ কারা সেই নাম প্রকাশ করেনি ওই সংবাদ মাধ্যম। তবে তাদের দাবি খুবই বিশ্বস্ত সূত্র থেকেই ওই খবর তারা পেয়েছেন। কী কথা হয়েছে সেই বিষয়েও জানিয়েছে ওই প্রতিবেদক। বিজেপির যে নেতার সঙ্গে ওই দুই বিদায়ী সাংসদ এবং প্রার্থীর কথা হয়েছে তিনি ঘাস ফুল শিবিরের ওই দুই নেতাকে পদ্ম শিবিরে বিশেষ সম্মান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, চলতি মাসের ২৩ তারিখে নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন তৃণমূলের ওই দুই প্রার্থী জয়লাভ করলে তাঁরা ওই দিনেই কলকাতায় রাজ্য বিজেপির সদর দফতরে গিয়ে প্রকাশ্যেই সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হবেন বলেও জানিয়েছেন বিজেপির শীর্ষ স্তরের নেতাকে। এমনই জানিয়েছে ওই সংবাদ মাধ্যম।

পশ্চিমবঙ্গে মোট লোকসভা আসন সংখ্যা ৪২টি। যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি আসনে পুরনো প্রার্থীদের বহাল রেখেছিলেন নেত্রী মমতা। তালিকায় একধিক হেরে যাওয়া প্রার্থীও আছেন। গত বারের জয়ী প্রার্থীর সংখ্যাটাও কিছু কম নয়। সেই তালিকার মধ্যে থেকে কোন দুই ব্যক্তি বিরোধী বিজেপি শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন? তা নিয়ে নিঃসন্দেহে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতির অন্দরমহলে।

রবিবার সপ্তম দফার ভোট শেষ হয়ে যাওয়ার পরে প্রকাশিত হয়েছে এক্সিট পোলের ফলাফল। যেখানে কোনও সংস্থায় তৃণমূলকে লক্ষ্যপূরণের মতো জায়গায় রাখেনি। একটি সংস্থা আগের থেকে ভালো ফলের ইঙ্গিত দিলেও অধিকাংশই বাংলায় বিজেপি ঝড়ের ইঙ্গিত দিয়েছে। সেই এক্সিট পোলের রিপোর্টকেও ভুয়ো বলে দাবি করেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানেও বিজেপি এবং মোদীর চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। যা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি শিবির।

টাইমস নাউ-এর পক্ষ থেকেও এক্সিট পোলের সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। সেই সমীক্ষা অনুসারে বাংলায় ১১টি আসন পেতে চলেছে বিজেপি। তৃণমূলের দখলে যেতে পারে ২৯টি আসন। বাকি দুই আসন পকেটস্থ করতে পারে কংগ্রেস। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক বাংলায় শাসন করে রেকর্ড গড়া বামেদের শূন্যতেই সন্তুষ্ট থাকতে হতে পারে বলে দাবি করেছে টাইমস নাউ।