স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: লোকসভা ভোটের খারাপ ফলের প্রভাব ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে পরতে পারে। তৃণমূলের অন্দরেই এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। রবিবার ধর্মতলা চত্বরের ছবি দেখে ঘাসফুল শিবিরের অনেককেই হতাশ হতে দেখা গেল।লোকসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর মাত্র দু-মাসের মধ্যে একুশের সমাবেশ সাংগঠনিক শক্তির পরীক্ষা ছিল তৃণমূলের।

ভোটে খারাপ ফলের পরে আদৌ শহিদ সমাবেশে ভিড় হয় কি না, সেদিকেই পাখির চোখ ছিল সমস্ত মহলের। এদিন দেখা গেল, ধর্মতলা চত্বর ভড়লেও সেই ভিড়ে জমাট ছিল না। ভিড় ছিল খাপছাড়া। উত্তরবঙ্গ থেকে এবার তেমন লোক হয়নি। বেশিরভাগ লোকই ছিল দক্ষিণবঙ্গের। উল্লেখ্য, উত্তর থেকে তেমন লোক হবে না বুঝেই এবার সেই ভিড়ের ঘাটতি মেটানোর টার্গেট দক্ষিণকে দেওয়া হয়েছিল।

বালুরঘাট থেকে এক তৃণমূল কর্মীর কথায়, “লোকসভা ভোটের পর আমাদের ওদিকে অনেকেই বিজেপিতে চলে গেছে। না হলে তো ওখান থেকেই অনেক লোক আসে।” নন্দীগ্রামের এক তৃণমূল কর্মী ২৬ বছর ধরে একুশের সমাবেশে আসছেন। তার কথায়, “লোক তো প্রচুর হয়েছে তবে গতবারের তুলনায় মনে হচ্ছে কম।” উত্তর কলকাতা থেকে আসা আর এক সমর্থক বলেন, “আসলে আজ রোদের তাপটা খুব বেশি। সেই কারনেই হয়তো অনেকে আসেননি।” টিপু সুলতান মসজিদের কাছে কয়েকজন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীকেও সভার লোক সমাগম গিয়ে আলোচনা করতে শোনা গেল।

তাঁদের বক্তব্য, ওই চত্বরে ২০ হাজারের বেশি লোক হয়নি। ২১ জুলাইয়ের ভিড়ের রেকর্ড প্রতিবছর ভাঙাটাই তৃণমূলের কাছে চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এবার সেই চ্যালেঞ্জ তৃণমুল নেয়নি। এবার তাঁদের লক্ষ্য ছিল গতবারের ভিড়টাকে ধরে রাখা। বলে রাখা ভালো, তৃণমূল নেতৃত্ব এর একাংশ মনে করে গতবছর সবথেকে বেশি ভিড় হয়েছিল একুশের সভায়।কিন্তু সেই ভিড়টাকেও এবার ধরে রাখতে পারেনি ঘাসফুল। যেটা তাঁদের বেশ চাপে ফেলেছে বলে খবর।

তবে দিদির বার্তা শুনে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন তৃণমূল কর্মী বলেন, “দিন তো সবসময় একরকম যায় না। দেখবেন যারা আজ এলো না বিধানসভা ভোটের রেজাল্ট বেরোনোর পর তারা আবার একুশের সভায় আসবে।”