পুনে: শহিদদের দেহ কফিনবন্দী হয়ে পৌঁছচ্ছে বাড়িতে৷ গোটা দেশ এখন এককাট্টা৷ এরই মধ্যে জওয়ান হত্যার ক্ষোভ কতদূর পৌঁছতে পারে, তার উদাহরণ মিলল৷ মহারাষ্ট্রের পুনের ছোট্ট একটা বাজার৷ সেখানে দোকানের সামনে বিক্রি হচ্ছে পাকিস্তানি পতাকা৷

না, এটুকু পড়ে দোকানদারকে দেশদ্রোহী ভাবার কোনও কারণ নেই৷ কারণ সেই পতাকার সাথেই বিক্রি হচ্ছে লাইটার৷ তাও বিনামূল্য৷ সেই লাইটার পেয়েই ক্রেতারা বুঝে যাচ্ছেন ঠিক কি ইঙ্গিত করতে চাইছেন দোকানদার৷ গিরিশ মুরুদকর জেন্দেওয়ালে এখনও পর্যন্ত এরকম ১০০টিরও বেশি পাকিস্তানি পতাকা ও লাইটার বিক্রি করে ফেলেছেন৷

আরও পড়ুন : ঘড়ি আর ওয়ালেট দেখে চিহ্নিত করা হয় ক্ষতবিক্ষত জওয়াদের দেহ

সকাল থেকেই পুনের রাস্তায় বেশ কয়েকটি পতাকা পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে৷ পুলওয়ামায় হামলার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন অসংখ্য মানুষ৷ কমপক্ষে ৪২ জন জওয়ান শহিদ হয়েছেন৷ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দেশ জোড়া প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন মানুষ৷ গিরিশ বলেন সকাল থেকে ১০০রও বেশি পাক পতাকা বিক্রি হয়েছে৷ প্রত্যেকটা পতাকার সঙ্গে ১টা করে লাইটার বিনামূল্যে দিচ্ছি৷

বৃহস্পতিবার দুপুরে কাশ্মীরের অবন্তীপুরায় সিআরপিএফ কনভয়কে লক্ষ্য করে হামলা হয়। মৃত্যু হয়েছে ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানের। হামলার দায় স্বীকার করেছে পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ।

আরও পড়ুন : হদিশ মিলল পুলওয়ামা হামলার মূল ষড়যন্ত্রী রশিদ গাজীর

ভয়াবহ জঙ্গি হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্যুইট করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ট্যুইটে লেখেন, ‘পুলওয়ামায় সিআরপিএফের উওর হামলা নিন্দনীয়। আমাদের সাহসী জওয়ানদের এই বলিদান ব্যর্থ হবে না। শহিদ পরিবারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াবে গোটা দেশ।’ আহত জওয়ানদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, জঙ্গি হামলার বদলা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রীও। তিনিও তাঁর ট্যুইটে লিখেছেন, জঙ্গিদের উচিৎ শিক্ষা দেওয়া হবে। তাদের এই হামলার জন্য এমন শিক্ষা দেওয়া হবে, যা তারা ভুলতে পারবে না। একইসঙ্গে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন তিনি। শহিদ জওয়ানদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও দিয়েছেন।