শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত: হাওড়ায় তৃণমূলের ঘর ফাঁকা করে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈশাখী ডালমিয়া বিজেপিতে চলে গেছেন। লক্ষ্মীরতন শুক্লা মন্ত্রীত্ব ও দল ছাড়ার পর হাওড়া নিয়ে তৃণমূল উদ্বেগে রয়েছে। এবার সেই হাওড়া জেলাতেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা হাওড়া জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান অরূপ রায়।

শনিবার হাওড়ায় ব্রাত্য বসুর কর্মিসভা ছিল। সেখানে দেখা গেল না অরূপ রায়কে । যা নিয়ে অস্বস্তি এড়াতে টিম গেমের বার্তা দিলেন ওই কর্মীসভার আহ্বায়ক ব্রাত্য বসু। হাওড়ায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ সামলাতে এখন রীতিমতো জেরবার হয়ে পড়েছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব।

রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈশাখী ডালমিয়াদের বিজেপিতে যোগদানের পর জেলায় দলের অন্দরে কোন্দল থেমে যাবে বলে ভেবেছিলেন তৃণমূলের একটা অংশ। কিন্তু আবারও প্রকাশ্যে চলে এল হাওড়া জেলা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। যার ফলে শনিবার হাওড়ায় দলীয় কর্মিসভায় গড় হাজির রইলেন খোদ জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান অরূপ রায় স্বয়ং।

অস্বস্তি এড়াতে এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “কেউ বিচ্ছিন্ন ভাবে খেললে জেতা মুশকিল। সবার আগে টিম গেম দরকার।” গোষ্ঠীদ্বন্দের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই ভুল বোঝাবুঝি রয়ে গিয়েছে। নইলে তো উনি আসতেন।” খুব তাড়াতাড়ি ভুল বোঝাবুঝি মিটে যাবে বলে জানিয়েছেন ব্রাত্য বসু।

জেলা তৃণমূলের একাংশের মতে, “জেলায় কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজি নন অরূপ রায়। সেই চাপেই দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈশাখী ডালমিয়ারা। দলের প্রথম দিনের সৈনিক বলে পরে যারা দলে এসেছেন তাদের গুরুত্ব দিতে নারাজ অরূপ রায়। এদিনের কর্মিসভায় ব্রাত্য বসু আসায় তাই দেখা যায়নি তাঁকে।” এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি অরূপ রায়।

তবে অরূপ রায় সম্পর্কে তৃণমূলের অন্দরে ২০১১ থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অভিযোগ ছিল। বহুবার তাঁর বিরুদ্ধে দলের মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। হাওড়া জেলায় অরূপ রায় কাউকে দলে সামান্য জায়গা দেন না বলে অভিযোগ করেছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ছাড়ার দিন বৈশাখী ডালমিয়া যে অভিযোগ হাওড়া জেলা তৃণমূলের বিরুদ্ধে আনছিলেন সেটা যে অরূপ রায়ের প্রতিই তাঁর অভিযোগের অভিমুখ ছিল সেটা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রে যে কাজ করতে না পারার অভিযোগ করেছেন তার অভিযোগের অভিমুখও ছিল স্বয়ং অরূপ রায়ের দিকে।

এই নিয়ে অরূপ রায় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও বৈশাখী ডালমিয়ার বিরুদ্ধে সংবাদ মাধ্যমে মুখ খুলেছিলেন। তাঁদের সমালোচনাও করেছিলেন কঠোর ভাষায়।তাই এখন প্রশ্ন উঠছে, অরূপ রায়ের যাঁদের অপছন্দ ছিল তাঁরা সবাই তৃণমূল ছেড়ে চলে গেছেন। তা হলে কোন কারণে অরূপ রায় ব্রাত্য বসুর নেতৃত্বে আহ্বান করা কর্মীসভায় অরূপ রায় গেলেন না?

দলের অন্দরে অরূপ রায়ের কর্মীসভায় গড় হাজির হওয়া নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। তাই কেউ কেউ এখন সরাসরি প্রশান্ত কিশোরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তৃণমূূলের কেউ কেউ বলছেন, প্রশান্ত কিশোরকে ভোট কৌশলী হিসাবে এত টাকা দিয়ে দলের পরামর্শদাতা করে আনার কী দরকার ছিল? তাঁর দল সম্পর্কে পর্যালোচনা কী তাহলে কাজে আসছে না? ব্রাত্য বসুর উপস্থিতি যে অরূপ রায় মেনে নিতে পারবেন না সেটা কী প্রশান্ত কিশোরের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়ে নি?

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।