স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: ‘‘যাঁরা আচ্ছে দিন আনার কথা বলেন, তাঁরা গরীব মানুষের মন বোঝেন না। তাঁরা গরীব মানুষের কথা চিন্তা করেন না। একজন কন্যাদায়গ্রস্ত বাবা-মার কি অবস্থা হয় তা বুঝেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই তিনি রূপশ্রী প্রকল্প তৈরি করেছেন।’’ আর মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় বর্ধমানের কাঞ্চন নগরে একসঙ্গে ১০১ জোড়া বিয়ে দিয়ে রীতিমত নজীর গড়লেন খোকন দাস। বর্ধমানের কাঞ্চন নগরে গণবিবাহ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে একথা বলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

এদিন সানাই বাজিয়ে, পুরোহিতের মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে ১০১ জোড়া বিয়ে দিয়ে নজির সৃষ্টি করলেন বর্ধমানের কঙ্কালেশ্বরী কালিমাতা গণবিবাহ কমিটি। বর্ধমানের কাঞ্চন নগরে কঙ্কালেশ্বরী কালীমন্দির প্রাঙ্গণে মোট ১০১ জোড়া পাত্রপাত্রীর বিয়ে দেওয়া হল। এর মধ্যে ৮২ জোড়া হিন্দু পাত্র পাত্রী এবং ১৯ জোড়া মুসলিম পাত্র পাত্রী।

হিন্দু এবং মুসলিম রীতি মেনে এই দিন এই গণবিবাহ অনুষ্ঠিত হল। বাদ যায়নি আলোকসজ্জা থেকে মণ্ডপ সজ্জা। পাত্রকে সোনার আংটি, পাত্রীকে সোনার নাকছাবি সহ খাট, আলমারি, ড্রেসিংটেবিল, সাইকেল, সেলাই মেশিন, বাসনপত্র, দান সামগ্রী জীবনবীমা এমনকি এক মাসের খাবার সামগ্রীও দেওয়া হল। বিবাহ উপলক্ষে বর, কনে যাত্রী সহ নিমন্ত্রিত প্রায় ৫০০০ লোকের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করা হয় এদিন।

গণবিবাহের মূল উদ্যোক্তা কাউন্সিলার খোকন দাস জানিয়েছেন, গত চার বছর ধরে তাঁরা এই গণবিবাহের আয়োজন করছেন। প্রথম বছর চার জন, পরের বছর ১৭ জন, গতবছর ৪৩ জনের পর এইবছর ১০১ জনের বিয়ে দিয়েছেন।

এদিন নজিরবিহীন গণবিবাহের আসরে হাজির ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, স্বপন দেবনাথ, এলাকার বিধায়ক রবি রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব, জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, পুরসভার প্রাক্তন পুরপিত ডা, স্বরূপ দত্ত প্রমুখরাও।