মৌমিতা পোদ্দার, গোবরডাঙা : রাত পোহালেই মহালয়া। সেই সঙ্গে শিল্পের দেবতা বিশ্বকর্মার আরাধনায় মাতবে আম বাঙালি। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সব কিছুই যেন এবার উলট পালট হয়ে গিয়েছে।

একে করোনা সংক্রমণের ভয় তার উপর দফায় দফায় লকডাউনের গেরোয় ব্যবসা বাণিজ্যে যেন লক্ষী উল্টে যাওয়ার জোগার। চলতি করোনাময় পরিস্থিতির কারণে রাজ্যের অন্যান্য অংশের মতো উওর ২৪ পরগণা জেলাতেও এবার কমেছে পুজোর সংখ্যা। কমেছে ঘটা করে পুজার আয়োজন। কমেছে প্রতিমা তৈরীর বরাতও।

ফলে স্বাভাবিক নিয়মে রুটি রুজিতে টান পড়েছে প্রতিমা শিল্পীদের। তবে শেষ বেলায় এসে হু-হু করে বরাতের সব প্রতিমা বিক্রি হয়ে যাওয়ায় কিছুটা হলেও মুখে হাসি ফুটেছে মৃৎশিল্পীদের।

দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিমা তৈরীর সঙ্গে যুক্ত গোবরডাঙা সাহাপুরের মৃৎ শিল্পী উওম দে প্রতিমা বিক্রির ফাঁকে বলেন, “এবার অনেক কম বরাত পেয়েছি। আর তার মধ্যেও যেকটি বরাত এসেছে অত্যন্ত কম বাজেটের। তছাড়াও বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করার জন্য আলাদা করে কয়েকটা প্রতিমা গড়া হয়েছিল। যদিও শেষমুহুর্তে সেগুলি সবই বিক্রি হয়ে গিয়েছে।”

প্রতিমা শিল্পী উত্তম দে আরও জানান, অন্যান্য বছর যেখানে একশো থেকে দেড়শো বিশ্বকর্মা ঠাকুর তৈরি করা হত, করোনার কারণে তা মেরেকেটে ৬০/৭০ পিসে এসে দাঁড়িয়েছে। তার উপর লকডাউনের কারণে অনেকরই সেভাবে কাজকর্ম না থাকায় এবছর অনেকটা লোকসান করেই বিক্রি করতে হয়েছে ঠাকুর। যাতে ক্রেতারা ফিরে না যান। খরিদ্দারদের কথা মাথায় রেখেই ঠাকুরের সাইজ অনুযায়ী দাম ধরা হয়েছে৷ তবে সবটাই যে ক্রেতার সাধ্যের মধ্যেই সে কথাও জানিয়েছেন তিনি।

আর এই প্রতিমা তৈরী করেই সংসার চলে উওম দে’র। বিশ্বকর্মার মতো দুর্গা প্রতিমার ক্ষেত্রেও এক ছবি। প্রতি বছর এই সময় বিশ্বকর্মা ঠাকুর তৈরির পাশাপাশি দুর্গা প্রতিমা গড়ার কাজে ব্যস্ত থাকেন তিনি।

তবে এবছরের চিএটা একটু অন্যরকম। রাত পোহালে মহালয়া শুরু হলেও এখনও সেভাবে বড় কোনও অর্ডার মেলেনি। আর যাও বা মিলেছে তা সবই একচালার। করোনার কারণে এবছর সেভাবে বড় কোনও পুজো হবে না কোথাও। যারফলে বাড়তি প্রতিমা তৈরি করে রাখতে ভয় পাচ্ছেন তিনি।

কারণ, পরে যদি ঠাকুর বিক্রি না হয় তাহলে যে বিশ বাঁও জলে হয়ে যাবে। তবে সব মিলিয়ে বলা চলে, করোনার কালে বিশ্বকর্মা পুজোর একেবারে শেষলগ্নেে সমস্ত ঠাকুর বিক্রি হয়ে যাওয়ায় একটু হলেও মন্দার মধ্যে আশার আলো দেখছেন উওমের মতো হাজার হাজার মৃৎশিল্পীরা।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।