কলকাতা: ক্রমশ শিথিল হচ্ছে লকডাউন। স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছে শহর। ১০ জুন থেকে টলি পাড়ারও শ্যুটিং শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে বাধ সেধেছে। কারণ এখনও পর্যন্ত আর্টিস্ট ফোরাম সই করা অনুমোদিত কোনও গাইড লাইন হাতে পায়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই খবর প্রকাশ করেছে আর্টিস্ট ফোরাম নিজেই। তাই আদৌ ১০ জুন থেকে শ্যুটিং শুরু হবে কি না তা এখনও অস্পষ্ট।

শ্যুটিং যাতে শুরু করা যায় তার জন্য স্যানিটাইজ করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। মূলত করোনা আবহে যাতে প্রত্যেকে নিরাপত্তার সঙ্গে কাজ করতে পারেন তার জন্যই নতুন গাইডলাইন তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই গাইডলাইনে কী কী নতুন নিয়ম থাকবে তা নিয়ে গত ৪ জুন একটি বৈঠক হয়। কিন্তু বৈঠক হলেও এখনও স্থির হয়নি গাইডলাইনে কী কী থাকবে। সবাই একই সিদ্ধান্তে এখনও উপনীত হতে পারেননি।

গত ৪ জুন ফেসবুকে আর্টিস্ট ফোরাম এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেও বলে, সই করা কোনও গাইড লাইন এখনও এসে পৌঁছয়নি। সেই বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়, “আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে এখনও দু-চারটে বিষয় নিয়ে জটিলতা না কাটায় আমরা এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ SOP টি প্রকাশ করতে পারছি না। আশা করি শীঘ্রই আলোচনার মাধ্যমে সবকিছু নির্দিষ্ট হয়ে যাবে। এবং আমরা ততক্ষণাৎ তা আপনাদের সামনে তুলে ধরব।”

৯ জুন সকালে আরও একটি পোস্ট করা হয় আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে। সেখানে গাইডলাইমে কী কী প্রস্তাবনা রয়েছে তা তুলে ধরা হয়। গত ৪ জুন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, আর্টিস্ট ফোরাম, স্টার জলসা, জি বাংলা ও সান বাংলা-সহ আরও কয়েকটি সংগঠন মিলে এই প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়।

প্রস্তাবনার শুরুতেই বলা হয়, ইউনিটে মোট ৩৫ জনের বেশি লোক কাজ করতে পারবে না। এছাড়াও পোশাক, মেক আপ, খাবার, আউটডোর শ্যুটিং সহ নানা বিষয়ে ৪ পাতার প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। সেই প্রস্তাবনা পেশ করেই আজ মঙ্গলবার আর্টিস্ট ফোরাম লিখেছে, “প্রিয় সদস্যবন্ধু, এখনও পর্যন্ত আমরা চ্যানেল ও প্রযোজকদের কাছে শিল্পীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষাবিধি নিয়ে যে যে প্রস্তাব রেখেছিলাম তা নিম্নরূপ৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এখনও পর্যন্ত সর্বসম্মতিক্রমে সমস্ত পক্ষ থেকে তা স্বাক্ষরিত হয়নি!”

অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে আগামী কাল ১০ জুন থেকে শ্যুটিং শুরু হবে কি না, হলেও কী কী সতর্কতা বজায় রাখা হবে তা এখনও স্থির হয়নি।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।