লন্ডন: কত দ্রুত বদলে যায় ছবি৷ দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে তিলে তিলে প্রতিষ্ঠা এনে দিয়েছেন যে ক্লাবকে, তার সমর্থকরাই কি না ক’দিন আগে আর্সেন ওয়েঙ্গারকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে উত্তাল করে তুলেছিল পরিস্থিতি৷ ক্লাব কর্তৃপক্ষের আস্থা এবং নিভে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো জ্বলে ওঠার বরং বলা ভালো দলের জৌলুস ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ নিয়ে থেকে গিয়েছিলেন আর্সেনালে৷

প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই সরে গেলেন ওয়েঙ্গার৷ ঘোষণা করেছিলেন আগেই৷ রবিবাসরীয় এমিরেটস স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হল গানার্সদের ওয়েঙ্গার অধ্যায়৷ আর্সেনালে অবসান হল ২২ বছরের আর্সেন যুগের৷ বলাবাহুল্য, ক’দিন আগে যারা ওয়েঙ্গারের বিদায় চেয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন, শেষ দিনে তারাও আন্তরিক ভালোবাসায় ভরিয়ে দিলেন প্রিয় কোচকে৷ এমিরেটস স্টেডিয়ামের ৬০ হাজার আর্সেনাল সমর্থক সমবেতভাবে বলে উঠলেন, ‘মার্সি আর্সেন’৷ অর্থাৎ, থ্যাঙ্ক ইউ আর্সেন৷

কথায় আছে, শেষ ভালো যার, সব ভালো তার৷ আর্সেনালের খাস তালুকে ওয়েঙ্গারের শেষটা হল নিখুঁতভাবে৷ অন্তত এর থেকে ভালো বিদায় সংবর্ধনা আর হতে পারত না ওয়েঙ্গারের জন্য৷ ওয়েঙ্গারের কোচিংয়ে শেষ হোম ম্যাচে আর্সেনাল ৫-০ গোলে পরাজিত করল বার্নলেইকে৷ শেষ দু’টি অ্যাওয়ে ম্যাচে জিতলেও প্রিমিয়র লিগে প্রথম চারে থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টিকিট আদায় করা সম্ভব নয়৷ তবে ২২ বছরের আস্তানা ছেড়ে ফ্রান্সে ফিরে যাওয়ার আগে এমন ফাইভ-স্টার বিদায় সংবর্ধনা পাবেন, এতটাও বোধহয় আশা করেননি ওয়েঙ্গার৷

ওয়েঙ্গারের সঙ্গে প্রায় আড়াই দশকের সম্পর্ক ছিন্ন করার আগের মুহূর্তটাকে স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিল আর্সেনাল৷ সেই কাজে তারা সফল সন্দেহ নেই৷ ‘মার্সি আর্সেন’ ক্যাম্পেন সুনামির মতো ভাসিয়ে নিয়ে যায় এমিরেটস স্টেডিয়ামকে৷ ওয়েঙ্গারের বিদায় সংবর্ধনার জন্য তৈরি জার্সিতে রাঙা হয়েছিল গ্যালারি৷ দু’দলের ফুটবলারদের গার্ড অফ অনার থেকে ক্লাবের তরফে গোল্ডেন প্রিমিয়র লিগের স্মারক, সবই প্রসন্ন হয়তো বা বিষন্ন চিত্তে গ্রহণ করলেন ওয়েঙ্গার৷ হাত নেড়ে স্বীকার করলেন সমর্থকদের অভিবাদন৷ ক্ষুদে অনুরাগীকে উপহার দিলেন নিজের লাল টাই৷ বিদায়ী ভাষণে চোখে জল আনলেন গ্যালারির৷

স্যার ফার্গুসনের দ্রুত আরোগ্য কামণা করে নিজের বিদায়ী ভাষণ শুরু করেন ওয়েঙ্গার৷ পরক্ষণে বলেন, ‘ক্লাবটাকে স্পেশাল করে তোলার জন্য সকলকে ধন্যবাদ৷ এতবছর ধরে আমাকে কোচ হিসাবে রেখে দেওয়ার বিলাসিতা দেখানোর জন্য সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ৷ তোমাদের মিস করব৷ আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকার জন্য ধন্যবাদ৷ আমি আর্সেনালের একজন বড় ভক্ত৷ সারা জীবন ক্লাবের অনুরাগী থাকব৷ এতগুলো বছর একসঙ্গে থাকার পর একমাত্র রোবট ছাড়া এমন দিনে নির্বিকার থাকা সম্ভব নয়৷ আশা করি আবার দেখা হবে৷’