স্টাফ রিপোর্টার,কলকাতা: শেক্সপিয়র সরণিতে গাড়ি দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশীর মৃত্যুর ঘটনায় জামিন পেয়ে গেল আরসালান পারভেজ৷ তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই উঠে আসছে নতুন নতুন তথ্য৷ দুর্ঘটনার রাতে দুর্ঘনাগ্রস্ত জাগুয়ার গাড়িতে রাঘিব পারভেজ ছাড়া আরও একজন ছিল৷ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের তদন্তকারী আধিকারিকরা৷

বৃহস্পতিবার ধৃত আরসালান পারভেজ, রাঘিব পারভেজ ও মহম্মদ হামজাকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলা হয়৷ বিচারক রাঘিব পারভেজকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিলেও, আরসালান পারভেজ ও মহম্মদ হামজাকে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে জামিন দেন৷ তবে তাদের পাসপোর্ট পুলিশের কাছে জমা রাখতে বলা হয়েছে৷

পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার রাতে দুর্ঘনাগ্রস্ত জাগুয়ার গাড়িতে রাঘিব পারভেজ একাই ছিলেন না৷ তার সঙ্গে ওই গাড়িতে এক বন্ধু ছিল।যে সল্টলেকের বাসিন্দা৷ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্তকারীরা৷ ঘটনার রাতে কলেজের প্রিন্সিপালের ছেলের জন্মদিনের পার্টি থেকে রাঘিব পারভেজ ও তার বন্ধু ফিরছিলেন৷ ওই বন্ধুকে সল্টলেকে ছাড়তে যাওয়ার কথা ছিল রাঘিবের। কিন্তু তার আগেই ঘটে দুর্ঘটন।

সেই রাতে ঠিক কি ঘটেছিল তা জানতে গাড়িতে থাকা ওই বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্তকারীরা৷ ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গিয়েছে, দুর্ঘটনার পরে দুই বন্ধু দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।

জাগুয়ার কান্ডে এখনো পর্যন্ত পাওয়া তথ্য প্রমাণের ওপরে ভিত্তি করে লালবাজারের গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, সেদিন গাড়ির গতি ছিল প্রায় ১৫০ কিলোমিটার৷ যদিও গাড়ির ইডিআর রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ৷ ঘটনার সময় রাঘিব নেশা গ্রস্থ ছিল কি না, পুলিশ সেই বিষয়টিও এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেনি৷ তবে জানা যাচ্ছে, দুর্ঘটনার আগে ২-৩ বার রিহ্যাব সেন্টারে পাঠাতে হয়েছিল রাঘিবকে৷ সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷

ঘটনার ৫ দিন পরে পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার রাতে দুর্ঘটনাগ্রস্ত জাগুয়ার গাড়িতে ছিল না আত্মসমর্পন করা আরসালান পারভেজ৷ সেদিন দুর্ঘটনার আগে গাড়িটি চালাচ্ছিল আরসালানের দাদা রাঘিব পারভেজ৷ তারপরই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ ইতিমধ্যেই পরীক্ষায় জানা গিয়েছে রাঘিবের শরীরে সিলিকন বাইট -এর চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে৷

আরসালান গাড়ী কাণ্ডে প্রথমে ট্রাফিক পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করে ৷ পরে তদন্তের ভার নিয়েছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ৷ থ্রি ডি লেজার স্ক্যানার মেশিন ব্যবহার করে দুর্ঘটনাস্থলের আশেপাশের রাস্তা স্ক্যান করা হয়েছে৷ অত্যাধুনিক গাড়ি জাগুয়ারের নির্মাতা সংস্থা এসে ইভেন্ট ডেটা রেকর্ড সংগ্রহ করেছে৷ তদন্তকারী আধিকারিকরা লাউডন স্ট্রিট ও থিয়েটার রোডের সংযোগস্থল পর্যন্ত প্রায় ৪০-৪৫টি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেছেন৷ শুধু রাস্তার সিসিটিভিই নয়, খতিয়ে দেখা হয়েছে বাড়ির সিসিটিভির ফুটেজও৷

জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় জাগুয়ার গাড়িটির এয়ার ব্যাগ খোলে যায়৷ তখন ওই ব্যাগ চালকের মুখের ঘষা লেগে মুখে ‘সিলিকন বাইট’-এর চিহ্ন হওয়ার কথা৷ কিন্তু ধৃত আরসালান পারভেজের মুখে তা ছিল না৷ এতেই তদন্তকারীদের সন্দেহ হয়৷ শুরু হয় দ্বিতীয় ব্যাক্তির খোঁজ৷ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও জাগুয়ার সংস্থার বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায় শেষ কে গাড়িটি চালিয়েছে৷ পরে তাঁর নাম এবং মোবাইল নম্বরেরও হদিস পায় পুলিশ৷ তারপরই আরসালান পারভেজের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তদন্তকারী আধিকারিকরা৷ তাতেই জানা যায় দুর্ঘটনার রাতে বাড়ি থেকে জাগুয়ার গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন রাঘিব পারভেজ৷