বারাকপুর: নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর নাম ভাড়িয়ে টাকা তুলতে এসে হাতেনাতে ধরা পড়ল এক ব্যক্তি৷ নোয়াপাড়া থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় সে৷ এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা তুলতে এসে ধরা পড়ে হাতেনাতে৷ উত্তর ২৪ পরগনার গারুলিয়ার এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তোলা তুলতে এসে পুলিশের পাতা ফাঁদে ধরা পড়ে সে৷ ধৃতের নাম রাজেন্দ্র ভুঁইয়া৷

জগদ্দল রেল ব্রিজের উপর থেকে রাজেন্দ্রকে গ্রেফতার করে সাদা পোশাকে থাকা নোয়াপাড়া থানার পুলিশ কর্মীরা৷ এই ঘটনায় আরও চারজন অভিযুক্তকে খুঁজছে পুলিশ৷ রাজেন্দ্রর সূত্র ধরে বাকিদেরও দ্রুত গ্রেফতার করতে পারবে বলে মনে করছে নোয়াপাড়া থানার পুলিশকর্মীরা৷

খবর ছিল আগেই৷ প্রতারনাচক্রটি যে বেশ বড়সড় জাল বিস্তার করেছে তা বুঝতেই পারে পুলিশ৷ ধৃতকে জেরা করে আরও বড় কোনও চক্রের সন্ধান মিলবে বলেই মনে করা হচ্ছে৷ ইতিমধ্যেই ধৃতকে জেরা করতে নোয়াপাড়া থানায় এসে পৌঁছেছে নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর আধিকারিকরা৷

ঘটনার সূত্রপাত গত ৯ জুন দুপুরে৷ উত্তর ২৪ পরগনার গারুলিয়া নিরঞ্জন নগরের বাসিন্দা পেশায় মাছ ব্যবসায়ী অশোক বর্মনের বাড়িতে এনসিবির তদন্তকারী দল পরিচয় দিয়ে হঠাৎ হানা দেয় চার ব্যক্তি৷ নীল বাতি লাগানো গাড়ি হাঁকিয়ে তারা অশোকবাবুর বাড়িতে যান৷ অশোকবাবুর স্ত্রী দরজা খুলতেই নিজেদের নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর অফিসার পরিচয় দিয়ে নকল পরিচয় পত্র দেখান৷

আরও পড়ুন: অধীর চৌধুরী আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না, দাবি হুমায়ুনের

ঘরে ঢুকেই কেড়ে নেন অশোকবাবুর মোবাইল ফোনটি৷ বর্মন পরিবারের চার সদস্যের পরিচয়পত্র দেখার নাম করে কেড়ে নেয় সেগুলি৷ কিছুক্ষনের মধ্যেই তারা অশোক বর্মনকে তাঁদের গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায়৷ কাঁচরাপাড়া এলাকায় পৌঁছে তারা অশোকবাবুর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ৷

অভিযোগ, ওই চার ব্যক্তি জানায়, টাকা না দিলে মাদক পাচারের মামলায় জেলে পাঠানেরা ব্যবস্থা করা হবে৷ অবশেষে ব্যবসায়ী অশোকবাবু স্ত্রীকে ফোন করে কয়েক ঘণ্টায় ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করেন৷ এবং কল্যাণী হাইরোডের সামনে ওই টাকা দিয়ে স্বামীকে মুক্ত করে বাড়ি ফেরেন৷ কিন্তু অভিযুক্তরা বর্মন পরিবারের সকলের পরিচয়পত্র আটকে রাখে৷

আরও পড়ুন: বিজেপি একটা জঙ্গি সংগঠন! হুঁশিয়ারি মমতার

এরপরই অশোকবাবুকে অভিযুক্তরা বলে, চলতি মাসের ২৪ তারিখের মধ্যে চার লক্ষ টাকা দিতে হবে৷ না হলে মাদক পাচারের মামলায় গ্রেফতার করা হবে অশোকবাবুকে৷

এরপরই বিষয়টি জানিয়ে নোয়াপাড়া পুলিশের দ্বারস্থ হয় বর্মন পরিবার৷ পুলিশও আটঘাট বেঁধে নামে অভিযানে৷ অশোকবাবুকে দিয়ে ফোন করায় পুলিশই৷ ঠিক হয় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা দেবে৷ সেইমত রাজেন্দ্র ভুঁইয়্যা জগদ্দল রেল স্টেশনে পৌঁছয়৷ কিন্তু পুলিশও সেখানে ফাঁদ পেতে ছিল৷ সুযোগ বুঝেই ধরে ফেলে রাজেন্দ্রকে৷

তবে এনসিবির আধিকারিক পরিচয় দেওয়া যে প্রতারকরা অশোক বর্মনের বাড়িতে গিয়েছিল তারা এখনও গ্রেফতার হয়নি৷ তাদের খুঁজছে পুলিশ৷ পুলিশ মনে করছে এই চক্র খুব শীঘ্রই গ্রেফতার হবে৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ