সিউড়ি:  যার নাম শুনলে বাঘে-গরুতে একঘাটে জল খায়, খোদ তাঁর মেয়েকেই তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করার হুমকি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য। হুলুস্থুল কাণ্ড পুলিশমহলে। জোরদার তদন্ত শুরু হয়। জানা যাচ্ছে, ঘটনায় এক নাবালক সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফালাকাটা, রায়গঞ্জ এবং পাঁশকুড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তদের। দফায় দফায় অভিযুক্তদের জেরা করা হচ্ছে। শুধু মজা করার জন্যে নাকি, এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত পাঁশকুড়ার এক নাবালক ইউটিউবারের চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিও থেকে। প্রকাশিত ওই ভিডিওতে কেষ্টা মণ্ডলের রাজনৈতিক ভাষণ ‘এডিট’ করে একটি ভিডিও তৈরি করা হয়। ওই ভিডিও-তেই অনুব্রত মণ্ডলের মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করার ‘হুমকি’ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শুধু বিয়েই নয়, বিয়ে করে নাতি, নাতনি নিয়ে বাড়ি ফেরার কথাও বলা হয় ওই ভিডিওতে। পুরো ওই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়াতে ফের ভাইরাল হয়। সোশ্যাল মিডিয়াতে এক ওয়াল থেকে অন্য ওয়ালে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়তে থাকে সেই ভিডিও।

তেমনই ফেসবুকে ভিডিওটি শেয়ার করেন উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের বাসিন্দা ২৪ বছরের অরূপ সরকার। যা ২০ হাজারের ওপরে শেয়ার হয়। সেই ভিডিও-ই ডাউনলোড করে তা টিকটকে আপলোড করে দেন ফালাকাটার বাসিন্দা ২১ বছরের সুকান্ত বর্মন। সেটিও ১৬ হাজারের ওপরে শেয়ার হয়। এইভাবেই একই ভিডিও হু হু ছড়িয়ে পড়ার পর বোলপুর থানা একটি লিখিত অভিযোগ পায়। যার ভিত্তিতেই শুরু হয় তদন্ত।

তদন্তে নেমেই ফালাকাটার সুকান্তের খোঁজ পান পুলিশ আধিকারিকরা। প্রথমকেই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। দফায় দফায় জেরা করা হয় তাকে। তাঁকে জেরা করে অরূপ বলে একজনের খোঁজ পান তদন্তকারীরা। আর তাকে হেফাজতে পাওয়ার পরেই এই ভিডিও যে তৈরি করেছে তাঁর কাছে পৌঁছে যান পুলিশ আধিকারিকরা। আজ বৃহস্পতিবার সকালে হাতেনাতে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। জানা যায়, যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে সে নাবালক। ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।