শঙ্কর দাস, বালুরঘাট: আত্রেয়ী নদী সংস্কারের দাবি তুলে দিল্লির দরবারে সরব হলেন সাংসদ। বুধবার দুপুর একটা নাগাদ লোকসভায় দক্ষিণ দিনাজপুরের জীবন রেখা বলে পরিচিত আত্রেয়ী নদীর নাব্যতা বাড়ানোর দাবি জানালেন। এদিন লোকসভায় দাঁড়িয়ে অধ্যক্ষা সুমিত্রা মহাজনের উদ্দেশ্যে বালুরঘাট কেন্দ্রের সাংসদ অর্পিতা ঘোষ জানান, তাঁর এলাকার মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়েছে আত্রেয়ী নদী। যে নদীর উল্লেখ মহাভারতেও রয়েছে। তিনি একথারও উল্লেখ করেন, বালুরঘাট কেন্দ্রের বহু এলাকার সঙ্গে মহাভারতের যোগ রয়েছে। যে কারণে আত্রেয়ী নদী তাঁর কেন্দ্রের জীবন রেখা।

দক্ষিণ দিনাজপুর তথা বালুরঘাট কেন্দ্র পুরোটাই কৃষি নির্ভর এলাকায়। চাষ আবাদই এই অঞ্চলের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। এই রকম গুরুত্বপূর্ণ একটি নদীর নাব্যতা বাড়ানোর কোনও উদ্যোগ আজ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে তিনি একাধিকবার দাবি জানিয়েও কোনও সারা পাননি বলে সংসদে অর্পিতা ঘোষ সরাসরি অভিযোগ করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি একথাও জানিয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির সামনেও আত্রেয়ী নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলেছে ধরে ছিলেন। লোকসভায় আত্রেয়ী নদীকে বাঁচাতে কেন্দ্রীয় জলসম্পদ বিভাগের মন্ত্রী উমা ভারতীর কাছে অর্পিতা ঘোষ অনুরোধ করেন, তিনি যেন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। যাতে এই এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক দিকের উন্নতি ঘটে।

এই আত্রেয়ীর দু’পাড়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কুমারগঞ্জ পতিরাম চকভৃগু ও বালুরঘাটের মত জনবসতি গড়ে উঠেছে।  বছর পাঁচেক আগেও বিশেষ করে খরার মরসুমে জেলার অন্যান্য নদী গুলি শুকিয়ে গেলেও আত্রেয়ী কিন্তু থাকতো জলপূর্ণ। সম্প্রতি এই নদীর জলস্রোত একেবারেই কমে গিয়েছে। জলস্তর কমে যাওয়ার এই ব্যাপারটি সর্বপ্রথম লক্ষ্য করেন আত্রেয়ী নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহকারী মৎস্যজীবীরা। এর পরেই পরিবেশবীদ ইন্টারনেটের মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন যে সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে এই নদীর উপর কংক্রিটের বাঁধ দিয়েছে। এই পরিস্থিতি নদীতে পলি পড়ে নাব্যতা একেবারেই কমে গিয়েছে।