নয়াদিল্লি: অরুণাচল প্রদেশে চপার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন সেনার সাত জওয়ান। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে সেই জওয়ানদের মৃতদেহের ছবি। যেখানে কফিন নয় কার্ডবোর্ডের বাক্সে মোড়া অবস্থায় দেখা যায় জওয়ানদের মরদেহগুলি। তারপরই শুরু হয় বিতর্ক।

সেই বিতর্কের শেষে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ তথ্য৷ ২০০১ সাল থেকে বডি ব্যাগ ও কাস্কেট নেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর৷ বহুবার এবিষয়ে তদ্বির করা হলেও, কোনও সুরাহা হয়নি৷ কার্গিল যুদ্ধের সময় থেকেই এই বডি ব্যাগের চাহিদা শুরু হয় সেনাবাহিনীতে৷ ১৯৯৯ সালে প্রথমবারের জন্য অর্ডার দেওয়া হয় ৩০০০ বডিব্যাগ ও ৪০০টি কাস্কেট৷ বদলে মেলে ৯০০টি বডিব্যাগ ও ১৫০টি কাস্কেট৷ তারপরেই বাতিল করে দেওয়া হয় অর্ডার৷ য

যখন অর্ডার দেওয়া হয়েছিল, তখন চুক্তিপত্রে বলা হয় কাস্কেটের ওজন হবে ১৮ কেজি৷ কিন্তু সেগুলি আসার পর অভিযোগ ওঠে, কাস্কেটগুলির এক একটির ওজন প্রায় ৫৫ কেজি, যা বহনযোগ্য নয় একেবারেই৷ ওঠে দুর্নীতির অভিযোগ৷ পদত্যাগ করেন তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজ৷ পরে অবশ্য তাঁকে ক্লিনচিট দেওয়া হয়৷ প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে চার লক্ষ ডলার মিটিয়ে দেওয়া হলেও, পরে ১,৫০,৫৫০ ডলার ফিরিয়ে নেওয়া হয়৷ গোটা ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে সিবিআই৷

বারো বছর পরে ২০১৩ সালে তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ জানা যায় চুক্তিপত্রে যে ১৮ কেজি ওজনের উল্লেখ ছিল, তা ছাপার ভুল৷ কাস্কেট মূলত ৫৫ কেজি ওজনেরই হয়৷ ২০১৭ সালের ১৭ই মার্চ পাতিয়ালা হাউস কোর্ট পড়ে থাকা কাস্কেট ও বডিব্যাগগুলিকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়৷ তবে পরে অডিট করে কিছু ত্রুটি মেলায় ফের বিষয়টি বিশ বাঁও জলে৷ গত ১৬ বছর ধরে তালা বন্ধ হয়ে পড়ে আছে ৯০০টি বডিব্যাগ ও ১৫০টি কাস্কেট৷