শ্রীনগর: বিজেপির সঙ্গে যৌথভাবে কাশ্মীরের সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মেহবুবা মুফতি। জোট ভাঙার পর সেই সরকার পড়ে যায়। এরপর থেকেই একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য শোনা গিয়েছে পিডিপি নেত্রীর গলায়। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রতি সুর নরম করতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। এবার তিনি ভয়ঙ্কর অভিযোগ আনলেন সরাসরি ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে।

জঙ্গিদের নিকেশ করার পর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে তাদের দেহ বিকৃত করে ফেলা হয়, এমনই অভিযোগ তুলেছেন মেহবুবা মুফতি। কাশ্মীরে প্রচার সভা চলাকালীন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমন অভিযোগ তুলেছেন মুফতি।

এই মন্তব্যের পর একটি ট্যুইটও করেন মুফতি। লেখেন, ‘প্রত্যেকটা মানুষ এমনকি জঙ্গিদেরও মৃত্যুর পর একটা মর্যাদা দেওয়া উচিৎ। এনকাউন্টারে জঙ্গিদের দেহ বিকৃত করে দেওয়ার জন্য রাসায়নিক ব্যবহার করে সেনাবাহিনী। এটা অমানবিক।’ তিনি আরও লেখেন, ‘একজন যখন তার ভাইয়ের বিকৃত দেহ দেখে, তখন তার হাতে বন্দুক তুলে নেওয়া কী খুব অস্বাভাবিক?’

মুফতির এই মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা আলি মহম্মদ সাগর। তিনি বলেন, মুফতি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন যদি কেমিক্যাল ব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে তাঁকেই এর সাফাই দিতে হবে।

অন্যদিকে বিজেপি-পিডিপি জোট সরকার থাকাকালীন যে বিজেপি নেতা কাশ্মীরের উপ-মুখ্যমন্ত্রী চিলেন, সেই কবিন্দর গুপ্তা বলেন, ‘মুফতির এই মন্তব্য খুবই অদ্ভুত। উনি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বড় বড় সেনা অভিযান চলেছিল। কেমিক্যাল ব্যবহার হয়েছিল কিনা, ওনারই তো সবথেকে ভাল জানা উচিৎ।’ তাঁর মতে ভোটের মরশুমে খবরে থাকতেই এই ধরনের মন্তব্য করেছেন মুফতি।

উল্লেখ্য, জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, সেনাবাহিনী রাসায়নিক ব্যবহার করতে পারে না। তাই মুফতির অভিযোগ অত্যন্ত ভয়ঙ্কর।

এর আগে পুলওয়ামা হামলার পরও ইমরান খানের প্রতি সুর নরম করেন মুফতি। ভারত-পাক বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভাষণ দিয়েছিলেন ইমরান খান। মেহবুবা মুফতি এরপর তাঁর ট্যুইটারে লেখেন, ‘ইমরান খান সদ্য দায়িত্ব পেয়েছেন, তাই তাঁকে একটা সুযোগ দেওয়া যেতেই পারে।’ ইমরান খানের সুরে সুর মিলিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা জানি সমানেই ভোট আর পাকিস্তানের উপর হামলা চালালে ভোটের রাজনীতিতে লাভ হবে।’