শ্রীনগরঃ  সীমান্তে ক্রমশ ভারতীয় সেনা ছাউনি লক্ষ্য করে মর্টার শেল হামলা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কভার ফায়ারিংয়ের সুযোগে সীমান্ত পার করে ভারতে ঢুকে পড়ে পাক জঙ্গিরা। আর তাই এবার নিয়ন্ত্রণরেখার নিরাপত্তায় জোর বদল আনতে চলেছে ভারতীয় সেনা। সীমান্তে মোতায়েন হচ্ছে রিমোট-নিয়ন্ত্রিত বন্দুক। আর তাদের নলের লক্ষ্যে থাকবে অনুপ্রবেশকারী। দূরে বসে স্রেফ বোতাম টিপেই নিকেশ হবে পাক-সেনা থেকে জঙ্গিরা।

সেনার তরফে জানানো হয়েছে, পীর পঞ্জাল রেঞ্জের দক্ষিণের এলাকা অত্যন্ত দুর্গম। এখানে পাহারা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। যার জেরে জঙ্গিরা এখানে অতি-সক্রিয়। সেখানেই এই অটোমেটিক গান মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি সেনার তরফে জানানো হয়েছে, সেনা জওয়ানরা যে সময় সীমান্তে কাঁটাতারের নিরিক্ষণ ও অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত সনাক্তকরণ করতে ছাউনি থেকে বের হবেন, তখন এই বন্দুক নিজের উঁচু জায়গায় থেকেই তাঁদের ‘কভার’ করবে।

জানা গিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই সাব-মেশিনগানে রয়েছে ইনফ্রারেড সেন্সর, যা কাঁটাতারের ওপারে ৮০ মিটার পর্যন্ত যে কোনও গতিবিধি ধরতে সক্ষম। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, কাঁটাতার থেকে আসল নিয়ন্ত্রণরেখার দূরত্ব ৫০ মিটার থেকে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। শুধু তাই নয়, সেন্সর ও নাইট-ভিসন ক্যামেরা লাগানো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বন্দুকগুলি রোটরের ওপর থাকায় চারদিকে ঘুরতে পারে। ক্যামেরার ছবি সরাসরি চলে যাবে ওয়ার্কস্টেশনে (বলা ভাল বাঙ্কারে), যেখানে উপস্থিত থাকবেন সেনার পদস্থ অফিসাররা। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত সামরিক কর্মীদের হাতে থাকবে ওই অত্যাধুনিক বন্দুকের দায়িত্ব।

সাধারণত কাঁটাতার টপকে কেউ অনধিকার প্রবেশ করতে চাইলেই চারদিকে ‘বাজ়ার’ বেজে ওঠে। সেই শব্দ ঠিক কোন জায়গা থেকে আসছে, তা পলকে জেনে যান প্রহরারত সেনাকর্মীরা। প্রথমে অনুপ্রবেশকারীকে সমর্পণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। না মানা হলে শক্তি প্রয়োগ করা হয়। অনুপ্রবেশকারী কোনও জঙ্গি হলে সঙ্গে সঙ্গে জওয়ানরা তাকে নিরস্ত্র করেন। কিন্তু, এখন জওয়ানদের আর এগোতে হবে না। বাঙ্কারে বসেই বোতাম টিপে অনুপ্রবেশকারী জঙ্গিদের খতম করা সম্ভব হবে। জঙ্গিকে ঠিকমতো টার্গেট করতে বন্দুকের নলকেও ওপর-নীচ করা যাবে। সবই বোতাম টিপে। ফলে, জঙ্গি-নিকেশের কাজ আরও সহজ হবে এবং সেনাবাহিনীরও প্রাণহানির ঘটনা কমবে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ