চেন্নাই: ৮ই সেপ্টেম্বর, দিনটা বিশেষ ছিল সদ্য পাশ করা সেনা অফিসার চন্দ্রেশের কাছে৷ ওই দিনই চেন্নাইয়ের অফিসার ট্রেনিং অ্যাকাডেমি(OTA) বা ওটা থেকে পাশ করলেন তিনি৷ র্মি ক্যাডেট ঠাকুর চন্দ্রেশ সিং সেদিন থেকে আর্মি সেনা অফিসার হিসেবে নতুন জন্ম নিলেন যেন৷ ভারতীয় সেনা বাহিনীর রাজপুতানা রাইফেলসের সেনা অফিসার হিসেবে কাজে যোগ দেবেন তিনি৷ তবে শুধু সেটাই নয়, সেদিন তাঁর জীবনের আরেকটা বিশেষ দিন হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে রইল৷ পাসিং আউট প্যারেড শেষ করেই নিজের দীর্ঘদিনের বান্ধবী ধারা মেহতাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন তিনি৷

সেই ছবি দুদিন আগেই ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন চন্দ্রেশ, আর চোখের পলক পড়তে না পড়তেই ৩৪ হাজার ছুঁয়ে যায় লাইকের সংখ্যা৷ আপাতত ছবিটি ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ পাসিং আউট প্যারেড সদ্য শেষ হয়েছে সেদিন৷ ওটার সব ছাত্ররাই তখন পাশ করার আনন্দে মশগুল৷ নিজের নিজের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ব্যস্ত৷ সেইসময় আচমকাই মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন চন্দ্রেশ৷ সামনে বান্ধবী ধারা৷ ঠিক সিনেমার কায়দায় হাত ছড়িয়ে বান্ধবীকে প্রপোজ করলেন তিনি৷ দিলেন বিয়ের প্রস্তাব৷

সবার সামনে এইভাবে বিয়ের প্রস্তাব পেয়ে বান্ধবীর চোখে তখন জল৷ সেখানে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রেশ ও ধারার বাবা মাও৷ আনন্দে অভিভূত তাঁরাও৷ চন্দ্রেশের এই পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের৷ তিনি ভেবে রেখেছিলেন যেদিন সেনার জন্য তিনি কাজ করার সুযোগ পাবেন, সেদিনই জীবনসঙ্গী বেছে নেবেন৷ বিয়ের প্রস্তাব দেবেন ধারাকে৷ তবে এই প্রস্তাবের ফল তাঁর জানা ছিল না৷ চন্দ্রেশ বলেছেন এই নিয়ে বেশ টেনশনে ছিলেন তিনি৷ তবে সেই টেনশন কাটল সেদিনই৷ চন্দ্রেশের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে ধারা জানালেন ‘ইয়েস’৷

চন্দ্রেশ জানিয়েছেন ধারা ও তিনি গত সাড়ে তিন বছর ধরে সম্পর্কে রয়েছেন৷ তবে বিয়ের কথা ভাবেননি তাঁরা তখনও৷ কারণ চন্দ্রেশ চেয়েছিলেন ভালো ভাবে নিজের কেরিয়ার গড়ে তার পর ধারাকে নিজের জীবনসঙ্গী বানাতে৷ সেই কথা রেখেছেন তিনি৷ চন্দ্রেশ ও ধারার দেখা ২০১২ সালে, বেঙ্গালুরুর সেন্ট জোসেফ কলেজে, যখন তাঁরা পড়ুয়া ছিলেন৷ তবে পৃথক বিভাগে৷ যদিও দেখা করার জায়গা ছিল হিন্দি ক্লাস৷ সেই বছরগুলোর কথা মনে করে হাসছিলেন চন্দ্রেশ, পাশে তাঁর হাসিতে যোগ দেন ধারাও৷ নিজের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে জীবন গড়ার আবেগটাই অন্য, চন্দ্রেশ ও ধারাকে দেখে সেটাই বোঝা যাচ্ছিল৷