কলকাতা: কলকাতা সহ গোটা রাজ্য কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরণিত হয়েছে। সাইক্লোন আমফানের ৭২ ঘন্টা পরেও চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ধংস্তস্তুপ। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চাই প্রচুর লোকবল। আর সেই কারণে সেনার সাহায্য চায় সরকার।

রাজ্য সরকারের আবেদনের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কলকাতার রাজপথে নামল সেনা। পাঁচ কলাম সেনা নেমেছে বাংলায়, এমনটাই ভারতীয় সেনার তরফে টুইট করে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে সেনা-জওয়ানরা কাজও শুরু করে দিয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সঙ্গে হাত হাত মিলিয়ে বাহিনী কাজ করবে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ এবং পুরসভার বিপর্যয় মোকাবিলা দলও কাজ চালিয়ে যাবে বলে জানা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজন আরও লোকবল। এই অবস্থায় এনডিআরএফের আরও ১০টি দলকে পাঠানো হচ্ছে বাংলায়। রাজ্যের অনুরোধে পাঠানো হচ্ছে এই বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জরুরি ভিত্তিতে কলকাতায় উড়িয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে জাতীয় বিপর্যয় বাহিনীকে।

বর্তমানে রাজ্যে কাজ করছে ২৬টি এনডিআরএফের দল। ঝড়-বিধ্বস্ত ৬টি জেলায় কাজ করছে এনডিআরএফ। এই দল ঝড়ে বিধ্বস্ত এলাকাগুলিতে কাজ করবে বলে জানা যাচ্ছে। দ্রুত বাংলাকে স্বাভাবিক করতে হবে, সেজন্যে প্রয়োজন প্রচুর লোকবল। সে কারণে শনিবার দুপুরে সেনার সাহায্য চায় রাজ্য সরকার। রাজ্যের আবেদনের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কাজ শুরু করে দিল বাহিনী।

প্রসঙ্গত, সাইক্লোন আমফানে বিপর্যস্ত বাংলা। তিনদিন কেটে গেলেও স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না পরিস্থিতি। ভয়ঙ্কর এই দুর্যোগে অসহায় মানুষ। শুধু অসহায় অবস্থায় থাকা নয়, এবার ধীরে ধীরে ক্ষোভও বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। আর তা যথেষ্ট বুঝতে পারছে নবান্ন। আর তাই এই পরিস্থিতিতে সেনার সাহায্য চায় নবান্ন। একই সঙ্গে রেল, পোর্ট সবাইকেই এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয় স্বরাষ্ট্রদফতরের তরফে।

এই বিষয়ে টুইট করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে। যেখানে বলা হয়েছে যে, রাজ্যে আমফান পরবর্তী পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের তরফে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। ২৪ ঘন্টা-সাতদিন কাজ করে চলেছে সমস্ত কর্মীরা। কিন্তু আরও কর্মীর প্রয়োজন। আর সেজন্যে সেনা, রেল এবং বন্দর কতৃপক্ষের কাছে সাহায্যের জন্যে আবেদন রাজ্যের তরফে।

রাজ্যের তরফে টুইটে আরও আবেদন, পানীয় জল পরিষেবা, নিকাশী ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে দ্রুত কাজ চলছে। কিন্তু কাজের জন্যে আরও কর্মীর প্রয়োজন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দফতর থেকে কর্মী চাওয়া হয়েছে। এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফের কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালাচ্ছে। কিন্তু তাঁদের সাহায্যের জন্যে সেনা, বন্দর এবং রেলওয়ের তরফে সাহায্য চেয়ে আবেদন করা হয়েছে দফতরের তরফে।