শ্রীনগর: কাশ্মীরে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের নেতৃত্বকে পুরোপুরি মুছে ফেলেছে ভারতীয় সেনা, এমনটাই জানালেন ১৫ কর্পস কম্যান্ডার জেনারেল কেজেএস ধিলন।

তিনি আরও জানিয়েছেন, লস্কর-এ-তইবা এবং অল-বদরের মতন জঙ্গি সংগঠনগুলিকে পুরোপুরিভাবে নির্মূল করা গেলেও হিজবুল-মুজাহিদিনের একজন কম্যান্ডার জীবিত রয়েছেন। ভারতীয় সেনাড় তরফে জানা গিয়েছে হিজবুল-মুজাহিদিনের নেতার নাম রিয়াজ কাইকু।

শনিবার সেনা-জঙ্গি গুলির লড়াইয়ে তিনজন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। ভারতীয় সেনা এনকাউন্টারে পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড তথা পাকিস্তানি জঙ্গি কারী ইয়াসিরকে খতম করেছে।

জইশ শীর্ষ কমান্ডার কুয়ারি ইয়াসির-এর খোঁজ অনেকদিন ধরেই চালাচ্ছিল সেনাবাহিনী। ইয়াসির কাশ্মীরে জঙ্গি সংগঠন জইশ-এ-মহম্মদের মুখ্য ছিল। শনিবার অবন্তিপোরায় এনকাউন্টারে সেনা ইয়াসিরের দুই সহযোগীকেও খতম করে।

কাশ্মীরের আইজি বিজয় কুমারের অনুযায়ী, ইয়াসির পুলওয়ামা হামলার মাস্টার মাইন্ড ছিল। শোনা যায় যে, এই কুখ্যাত আইডি বিস্ফোরণে এক্সপার্ট ছিল। আর যেই দুই জঙ্গি মারা গেছে, তাঁদের নাম হল মুসা আবু উসমান। এছাড়াও ত্রালের বাসিন্দা জঙ্গি বুরহানউদ্দিনকেও খতম করেছে সেনা। সেনা গোপন সুত্রে খবর পাওয়া গিয়েছিল যে, ২৬ শে জানুয়ারি এই জঙ্গিরা বড়সড় নাশকতা চালাতে পারে।

পুলওয়ামায় ২৭ অগস্ট একটি জঙ্গলের কাছ থেকে দু’জন স্থানীয় গুজ্জর সম্প্রদায়ের বাসিন্দাকে অপহরণ করেছিল জঙ্গিরা। এদের মধ্যে একজনকে গুলি করে হত্যাও করা হয়।

শ্রীনগরের চিনার কোরের জেলারেল অফিসার কমান্ডিং জেনারেল কেএস ঢিলোন আর পুলিশ মহানির্দেশক বিজয় কুমার বলেন, “ত্রলে এনকাউন্টারে আমরা তিন জঙ্গিকে খতম করেছি, যার মধ্যে জইশ এর কাশ্মীর এলাকার প্রধান কারী ইয়াসিরও ছিল। ইয়াসির গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে আইডি বিস্ফোরণে যুক্ত ছিল। ইয়াসির জঙ্গি সংগঠনে যুবদের এনে সাথে সাথে কাশ্মীর থেকে জঙ্গি এদেশে ঢোকাত।”

অন্যদিকে চলতি সপ্তাহেরই মঙ্গলবার পুলওয়ামা জেলার অবন্তীপোরা জেলায় এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে। খতম হয় এক জঙ্গি। তাঁর আগের দিন পাক জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি চালানোর সময় ঘটনাস্থলেই শহীদ হন এক পুলিশ আধিকারিক। পাশাপাশি আহত হন এক সেনা জওয়ানও। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওই জওয়ানের।