নয়াদিল্লি: বিস্ফোরক সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত৷ সমকামিতার কোনও জায়গা নেই সেনায়৷ রক্ষণশীলতাকেই প্রাধান্য দেয় ভারতীয় সেনা৷ এমনই মন্তব্য সেনাপ্রধানের৷ তাঁর এই মন্তব্যের পরেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে৷

বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সেনা প্রধান বলেন সমকামিতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে তিনি সম্মান করেন৷ কিন্তু তা কখনই ভারতীয় সেনাবাহিনীতে প্রযোজ্য নয়৷ কারণ ভারতীয় সেনা রক্ষণশীল৷ সেখানে সনকামিতার কোনও জায়গা নেই৷

আরও পড়ুন : ভারতীয় সিরিয়াল বন্ধ নিয়ে পাকিস্তানকে জবাব দিল দিল্লি

তিনি এদিন পরিষ্কার করে বলে দেন সমকামিতার কোনও ঘটনা সেনাবাহিনীতে ঘটলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সেনা আইনে সেই ঘটনার বিচার করা হবে৷ কারণ সমকামিতা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নিষিদ্ধ৷ তিনি এদিন আরও বলেন, এলজিবিটি বা সমকামিদের জায়গা সেনাবাহিনী নয়৷

উল্লেখ্য, বিভিন্ন দেশে সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে একটা সময় পর্যন্ত৷ ১৮৬১ সাল থেকে ব্রিটিশদের তৈরি ভারতীয় দণ্ডবিধি (আইপিসি) অনুসারে সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়ে এসেছে৷ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুসারে সমকাম একটি দন্ডনীয় অপরাধ বলেই চিহ্নিত হয়েছিল৷

আরও পড়ুন : ‘চিন ও পাকিস্তান সীমান্তে তৈরি ভারতীয় সেনা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে’

২০০৯ সালে দিল্লি হাইকোর্ট একটি রায়ে সমকামিতাকে বৈধতা দিয়েছিল৷ আর ২০১৩ সালে দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট৷ এরপর ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে দীপক মিশ্র সহ তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায়কে পুনর্বিবেচনা করার কথা জানান৷ এরপরই সমকামিতা অপরাধ নয় বলে ঘোষণা করে শীর্ষ আদালত৷

অবশেষে মেলে ছাড়পত্র। ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, সমকামিতা আর অপরাধ নয়।তবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে মান্যতা দিলেও, সেনাবাহিনীতে সমকামীদের অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে অনড় সেনাপ্রধান৷ সেনাবাহিনীকে রক্ষণশীল বলতেও সেক্ষেত্রে পিছপা হলেন না তিনি৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ