শ্রীনগর: বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করল ভারতীয় সেনা৷ জম্মু কাশ্মীরের রাজৌরি জেলায় নিষ্ক্রিয় করা হল শক্তিশালি আইইডি৷ রাজৌরির জাতীয় সড়কের কাছে কাল্লার চকে এই ঘটনা ঘটে৷ আইইডি বিস্ফোরণ হলে বহু মানুষের ক্ষয়ক্ষতির আশংকা ছিল বলে জানাচ্ছে সেনা৷

ইতিমধ্যেই নিরাপত্তার স্বার্থে ওই জাতীয় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে৷ তল্লাশি চালানো হচ্ছে৷ চলছে নাকাবন্দী৷ সোমবার সেনার রোড ওপেনিং পার্টি জাতীয় সড়ক ১৪৪এতে টহলদারি দিচ্ছিল৷ সেখানেই রাজৌরি ও পুঞ্চ জেলার মাঝের সংযোগকারী রাস্তায় এই আইইডি উদ্ধার হয়৷

ফাইল ছবি

পেট্রলিং চলাকালীন রাস্তার মাঝে সন্দেহ জনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখেন সেনা আধিকারিকরা৷ দ্রুত সেটিকে পরীক্ষা করে আইইডি উদ্ধার করেন তাঁরা৷ দ্রুত নিষ্ক্রিয় করা হয়৷ দেখা যায় একটি বোতলে কিছুটা তরল পদার্থ রয়েছে আর একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে ছিল বেশ কিছু কঠিন বস্তু৷ সেসব পরীক্ষা করেই আইইডির হদিশ পান সেনা জওয়ানরা৷

সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী পুলিশ চৌকি ও সেনা ক্যাম্পে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়৷ স্থানীয় চিঙ্গুস ছাতয়ার পুলিশ স্টেশন থেকে পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে৷ উপস্থিত হন এসআই এম ডি খান৷ সঙ্গে সঙ্গে যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়৷ পরে বম স্কোয়াড এলাকায় পৌঁছে আইইডি নিষ্ক্রিয় করে৷

আরও পড়ুন : মোদীর অস্বস্তি বাড়িয়ে রাম মন্দির ইস্যুতে ফের সুর চড়ালেন মোহন ভগবত

উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক এসএসপি যুদল মানহাস বলেন কোনও ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়েই আইইডি শনাক্ত করা যায়৷ খুব দ্রুততার সাথে কাজ করে পুলিশ ও সেনা৷ কে বা কারা ওই আইইডি এলাকায় ফেলে গিয়েছিল, সে বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে৷ নেতৃত্বে রয়েছেন ডেপুটি পুলিশ সুপার গোবিন্দ রাট্টান৷

রবিবারই স্বাভাবিক জীবনে ধীরে ধীরে ফিরেছে জম্মু-কাশ্মীর৷ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর দোকান পাট খুলেছে, চাকা ঘুরেছে যান বাহনের৷ রবিবার থেকে কাশ্মীরের কোনও অংশেই কোনও নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়নি৷ আল কায়েদার শীর্ষ জঙ্গি কমান্ডার জাকির মুসা এনকাউন্টারে খতম হওয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে গোটা উপত্যকা জুড়ে কারফু জারি করা হয়৷

প্রশাসন আশংকা করেছিল আলকায়দা জঙ্গিরা পালটা হামলা চালাতে পারে৷ রবিবার সকাল থেকে কারফু তুলে নেওয়ার পরেই ভিড় দেখা যায় দোকান পাট, পেট্রোল পাম্প ও এটিএমের কাউন্টারে৷ যান বাহনও চলতে শুরু করে সাধারণ ভাবেই৷

খুলে যায় লালচক সিটি সেন্টার৷ তবে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ ছিল৷ জাকির মুসার মৃত্যুর পর বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী হুরিয়ত কনফারেন্সের প্রধান সৈয়দ আলি শাহ গিলানির ডাকে বনধ পালিত হয় উপত্যকা জুড়ে৷ বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মোবাইল পরিষেবা ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ শনিবার সন্ধে নাগাদ কিছু অংশে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করা হয়৷