নয়াদিল্লি : চিনের দাদাগিরি কোনও দিনই বরদাস্ত করেনি ভারত। ডোকলাম তার সাক্ষী। এবার ফের বেজিংকে চাপে রাখতে নয়া স্ট্র্যাটেজি নিচ্ছে ভারত। সীমান্ত বরাবর একাধিক রাস্তা, টানেল, সেনা ক্যাম্প তৈরি করেছে নয়াদিল্লি। এলএসি বরাবর এগুলো গড়ে উঠছে।

চিনা সীমান্ত বরাবর উত্তরাখণ্ডে নতুন টানেল তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল ঘেঁষে কাজ শুরু করেছে নয়াদিল্লি। স্ট্র্যাটেজিক টানেল তৈরির কাজ শুরু করায় কড়া বার্তা দেওয়া গেল বলেই মনে করছে নয়াদিল্লি। এই টানেল দিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী আরও দ্রুত সীমান্তে পৌঁছতে পারবে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও তৈরি করা হয়েছে মডেল সেনা ক্যাম্প। নতুন করে চিনা সীমান্তের সুরক্ষা ঝালিয়ে নিতে প্রস্তুত ভারতীয় সেনা। সীমান্তে প্রথমে চিনা সেনার বাড়বাড়ন্ত দেখেই ভারতীয় সেনা আসরে নামে।

কূটনৈতিক স্তরে মোকাবিলার পাশাপাশি, সামরিক স্তরেও চিনের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে চাইছে ভারত। সেই লক্ষ্যেই চলছে রণসজ্জা। লাদাখের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি অন্তত সেই কথাই বলছে। বর্তমানে চিন মিলিটারি সীমান্তের যে এলাকায় রয়েছে সেখান থেকে ভারতের অংশে ঢুকতে মাত্র কয়েকঘণ্টা লাগবে। লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের বিভিন্ন জায়গায় ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে চিন।

সূত্র জানিয়েছে, চিনা সেনাবাহিনী লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের কাছের ঘাঁটিগুলিতে নানান যুদ্ধের গাড়ি ও ভারী যুদ্ধের সঞ্জাম নিয়ে এসেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীও চিনা বাহিনীকে পাল্লা দিতে অতিরিক্ত সেনা আনিয়েছে। এছাড়া আর্টিলারের মতো অস্ত্র ওই এলাকায় পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় বিমান বাহিনীও ওই এলাকায় নিজেদের কড়া নজর রেখেছে। গত কয়েকদিন ধরে খবরের শিরোনামে ভারত-চিন সংঘাত। প্রায় এক মাস হতে চলল সীমান্তের কাছে চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে আছে ভারত এবং চিনের সেনাবাহিনী।

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই একাধিকবার মুখোমুখি হয়েছে ভারত-চিন। তবে ফিংগার ফোর অঞ্চলে বিশাল সংখ্যায় চিন সেনা শক্তি প্রদর্শন করে দুটি রাস্তা এবং লেকের রুটের ব্যবহারে ক্ষমতা কায়েম করার চেষ্টা করেছে তবে তা সফল হয়নি। তবে চিনকে কিছুটা হলেও কাবু করেছে ভারত।

দেশের মাটির কোনওদিকেই চিন সেনার ঢুকতে না পারার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। সতর্ক রয়েছে ভারতীয় সেনা। চিনকে পাল্লা দিতে লাদাখ সেক্টরের উঁচু এলাকাগুলিতে বিশাল সংখ্যায় সেনা মোতায়েন করছে ভারতও। চিনের ৫০০০ সেনার সমান-সমান ছবি তুলে ধরার জন্য এতটুকু বসে নেই ভারত।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প